পিপিইর অভাব নিয়ে উদ্বেগ

ভারতে চিকিৎসককে পাঠানো হলো মানসিক হাসপাতালে

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০৫:২৩ এএম

ভারতে মাস্ক ও পারসোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় সুধারক রাও নামে এক ডাক্তারকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারতের বিশাখাপত্তমের একটি রাস্তায় নিজের গাড়িতে খালি গায়ে বসে আছেন সুধাকর। অপর আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় তার হাত বাঁধা, তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছে এক পুলিশ কনস্টেবল। ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সুধাকর জানান, পুলিশ তার গাড়ি জোর করে থামায় এবং তাকে বের করে নেয়।

তবে বিশাখাপত্তম পুলিশ কমিশনার আর কে মিনা বলেছেন, এক লোক মদ খেয়ে রাস্তায় মাতলামি করছেন এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তারা জানতেন না ওই ব্যক্তি ডা. সুধাকর রাও। পুলিশের অভিযোগ, রাস্তায় দেওয়া একটি ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিলেন সুধাকর এবং রাস্তার ওপর মদের বোতল ফেলে রেখেছিলেন। এমন অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে একটি হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষা করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মানসিক কোনো হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ডা. সুধাকর রাও কাজ করেন একটি সরকারি হাসপাতালে। গত ৩ এপ্রিল তিনি মিডিয়াকে জানান, চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সুরক্ষা গাউন ও মাস্ক দেওয়া হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, একটি মিটিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এ বিষয়টি উত্থাপনের পরপরই তাকে মিটিং থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। একটি ভিডিও ক্লিপে স্থানীয় টেলিভিশনের সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, নতুন একটি মাস্ক চাওয়ার আগে আমাদেরকে ১৫ দিন একই মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আমাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে কীভাবে আমরা অন্য রোগীদের চিকিৎসা দেব? তার এ ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

সঙ্গে সঙ্গে সরকার তদন্তের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ ফাইল করার আগেই কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলতে থাকেন তিনি অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নৈতিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এর কয়েক দিন পর ডা. সুধাকর রাও একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় এবং তিনি সাময়িক বরখাস্ত আদেশ বাতিল করার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত