বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন অসংগতিপূর্ণ মনে করছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতে ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বেশি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছে তারা। সেই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবসম্মত নয়।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছে সানেম। সানেম বলছে, অনেকগুলো সংকট সামনের দিনগুলোতে ঘনীভূত হতে যাচ্ছে, তার সঙ্গে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন সংগতিপূর্ণ কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমরা কি অনুমান করে নিচ্ছি যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অর্থনৈতিক কর্মকা- স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং তাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে যে গতিধারায় ছিল, সেখানে ফিরে আসবে? তবে বাস্তবতা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আমরা দেখছি যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি, বিশেষ করে সংক্রমণের মাত্রা আরও বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে এবং কবে অর্থনৈতিক কর্মকা- স্বাভাবিকভাবে চালু করা যাবে, সেটি নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতির বড় দুটি চালিকাশক্তির একটি রপ্তানি, আরেকটি রেমিট্যান্স। এই দুটি খাতেই আমরা বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা করছি। রপ্তানির বড় দুটি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উত্তর আমেরিকাÑ এই দুই অঞ্চলেই নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি তেলের দাম অভূতপূর্বভাবে কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, যেগুলোতে আমাদের শ্রমিকেরা কাজ করেন, সেগুলোতেও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে।
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সানেম। তারা বলছে, ‘বর্তমান স্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবিলায় যে অস্থিরতা, অদক্ষতা, সক্ষমতার অভাব দেখা যাচ্ছে, তা এক দিনে হয়নি। এটা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ফলাফল। যে বরাদ্দ বাড়ানো হলো, তাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। তবে পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনার যে বেহাল দশা, সেটির উন্নয়ন করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না ঘটলে এই বর্ধিত বরাদ্দ সত্যিকার অর্থেই কতটুকু কার্যকরী হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
