ভিডিও কনফারেন্সে কাদের

বিদেশ গমনেচ্ছুদের করোনা রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার আহ্বান

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৯ এএম

বিদেশ গমনেচ্ছুদের করোনা রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিদেশ গমনেচ্ছুদের করোনা পরীক্ষার একটি যৌক্তিক সময় নির্ধারণ করতে হবে। রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ না করে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের রিপোর্ট আগে বা স্বল্প সময়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। ’

গতকাল শুক্রবার ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত প্রতিনিধিদের  মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধসামগ্রী ও বন্যার্ত জেলায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

বিদেশগামী বাংলাদেশিদের নমুনা পরীক্ষা করে করোনার সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে পরীক্ষা কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টা আগে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ লাইন একদিকে বিদেশগামীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত তারা উদ্বেগে।

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ অভিযোগ করছে নমুনা দেওয়ার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সংক্রমিত হলে তা বিদেশে নমুনা পরীক্ষায় ধরা পড়তে পারে। তখন প্রাপ্ত সনদ কাজে আসবে না বা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তাই বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষায় একটি যৌক্তিক সময় নির্ধারণ করা দরকার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নমুনা গ্রহণ এবং রিপোর্ট প্রদান করে তাদের উদ্বেগ কমানোর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের নজর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার পরিবর্তে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং বিদেশগামীদের জন্য বুথের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে আগেভাগে তৎপর হওয়া উচিত।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, করোনাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে তখন বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, উল্টো মানবিক সংকটকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে অপরাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে। যারা দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে না, কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা করে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

কাদের বলেন, আন্দোলন ও নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তারা অপরাজনীতির অন্ধকারের গিরিখাতে দিগ্ভ্রান্ত পথহারা পথিকের মতো প্রলাপ বকতে শুরু করেছে। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও চাতুর্যপূর্ণ কথামালা ব্যবহার করে প্রেস ব্রিফিংনির্ভর গলাবাজির রাজনীতি করছে বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার এই সংকটে মানুষের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে খাদ্যের অভাবে মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী একের পর এক জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন।

তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক শক্তিশালী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক আর না থাকুক দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকে, আর এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য।

সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশের এই সংকটে বিএনপি কোনো কার্যক্রমে নেই, তারা প্রেস ব্রিফিং করা ছাড়া আর কিছুতেই নেই।

ধানমন্ডিতে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ,  উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত