শুধু করোনাকালীন সংকট নয়, যেকোনো দুর্যোগে রপ্তানিমুখী শ্রমিকরা বৈদেশিক সহায়তা পাবেন। এজন্য গঠন করা হচ্ছে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড বা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তানির্ভর তহবিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় এ তহবিলের যাত্রা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সহযোগী সংস্থাকে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হবে। সরকারের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ তহবিল গঠনে ইইউর সম্মতির পর এখন মডিউল বা নীতি-কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ঈদের পর এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), শ্রম মন্ত্রণালয় ও ইইউ বাংলাদেশ মিশন বৈঠকে বসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদের সহযোগিতায় একটি তহবিল গঠনের জন্য অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দেয় ইইউ। এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে রপ্তানিমুখী সব খাতের শ্রমিককে এই তহবিলের আওতায় আনার প্রস্তাব দেয় ইআরডি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চিঠি চালাচালির পর ইআরডির প্রস্তাবে সম্মতি জানায় ইইউ। এখন কী পদ্ধতিতে শ্রমিক নির্বাচন করা হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে। ইআরডি সূত্র জানায়, ইইউর প্রস্তাব ছিল করোনায় চাকরিচ্যুত ও বেতন বঞ্চিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দেওয়া বাবদ তহবিল গঠন। কিন্তু এখন এটা সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে এটি হবে এককালীন সহযোগিতা।
ইআরডির ইইউ উইংয়ের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহন্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হবে। সরকার চেয়েছিল ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ গঠন করতে, ইইউ এতে রাজি হয়েছে। এখন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। এতে শ্রমিক নির্বাচন পদ্ধতিসহ বিস্তারিত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরডির আরেক কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি সূচনা বলা চলে। যেকোনো দুর্যোগে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। ইআরডিও চেষ্টা করবে অন্যান্য সংস্থা ও দেশকে এই তহবিলে যোগ করতে।
গত ২০ মে ইইউর বাংলাদেশ মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ইউরো দেবে ইইউ। এর মধ্যে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। আর ১১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো ব্যয় হবে পোশাক শ্রমিকদের জন্য। এই ১১ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর মধ্যে ২ কোটি ইউরোতে জার্মান সরকারের অনুদানও রয়েছে। কিন্তু ইআরডির প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে অর্থ সহায়তার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও শ্রমিক নির্বাচনের ধরন ও আওতা বাড়ছে।
এ বিষয়টি নিয়ে ইইউ বাংলাদেশ মিশনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের তহবিল গঠনে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবে ইইউ একমত পোষণ করে। এখন এর যথাযথ প্রয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।
