বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ’৭২-’৭৫ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে জনগণ জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েছিল। ক্ষমতায় গিয়ে জিয়াউর রহমান মানুষের সব অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। তার আগে বিশেষ ক্ষমতা আইন করে সরকার বিরোধীদের ওপর বিভিন্নভাবে নিপীড়ন ও নির্যাতন চালায়। এরপর জনগণই জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় আনে।’
তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় রাজনীতিবিদদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়। এখন বিএনপির প্রধান কাজ মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এজন্য বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। দলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যত মুক্তিযোদ্ধা আছে তার চেয়ে অনেক বেশি মুক্তিযোদ্ধা বিএনপিতে আছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কোনো একজনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। পদকপ্রাপ্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগে নেই। এগুলো একটি ঈর্ষা আর এই ঈর্ষার কারণে আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র বিএনপি ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রাজনীতি করছে।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারসহ শীর্ষ নেতারা।
