বাকেরগঞ্জে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ০২:০৫ এএম

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মামুনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করেছে তার প্রতিপক্ষরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ঢাকায় পাঠিয়েছেন বরিশালের চিকিৎসকরা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গোলাম সরোয়ার সবুজের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত মামুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আহত মামুন ৬ নম্বর ফরিদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

মামুনের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, এক সময়ের জাতীয় পার্টি নেতা, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সমর্থক সন্ত্রাসী গোলাম সরোয়ার সবুজের নেতৃত্বে বারেক মোল্লা, মহিউদ্দিন মোল্লা, সোহেল মোল্লা, রনি মোল্লা, মানিক মোল্লাসহ অনেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে মামুনকে। এর আগেও একাধিকবার তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।

মামুনের ছোট ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম বলেন, একটি হত্যা মামলায় গোলাম সরোয়ার সবুজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাধিকবার মামুনকে আক্রমণ করেছে সবুজ। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার মামুন বরিশাল থেকে বাড়ি ফিরছিল। মোটরসাইকেলে ফরিদপুর ইউনিয়নের ভাতশালা বাজারের পশ্চিম পাশে পৌঁছলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সবুজ ও তার দলবল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মামুনের শরীরে ১৯টি কোপের আঘাত রয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাজিবুল হক বলেন, বাকেরগঞ্জের এক রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়। তার শরীরে অনেকগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। গুরুতর অবস্থা হয়েছে চোখের কোণে আঘাত এবং পায়ের রগ কেটে গেছে। এছাড়া হাড়ও কেটেছে। আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, একটি হত্যা মামলা নিয়ে সবুজ এবং ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই সবুজের নেতৃত্বে মামুনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুনেছি তাকে নাকি ঢাকায় পাঠিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে মামুনের প্রতিপক্ষ বারেক মোল্লাকেও পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষ। এ ব্যাপারে এখনো মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গোলাম সরোয়ার সবুজ এবং ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম মামুন বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেন। মামুন ওই মামলার আসামি ছিলেন। তখন থেকেই দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত