করোনাভাইরাস

সংক্রমণে শিশুদের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ১২:৩৫ এএম

শিশুদের নাকে টানা তিন সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাস থাকতে পারে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার এক গবেষণায় এমন দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর আগের গবেষণাগুলোয়, শিশুদের মধ্যে করোনার মৃদু ও উপসর্গহীন সংক্রমণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার এই গবেষণার আলোকে শিশুদের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিস্তারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণে শিশুদের স্কুলে ফিরতে হচ্ছে। অনেক দেশই স্কুল-কলেজ খুলে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, স্কুল খুললেও সেখানে শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক ও নিয়ম করে হাত ধোয়ার বিষয়টি মানতে হবে সংক্রমণ প্রতিরোধে। অধ্যাপক ভাইনারের মতে, অ্যান্টিবডি পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, শিশুরাও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশরই নেই কোনো উপসর্গ।

মোট ৯১ জন শিশুর ওপর গবেষণা করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা এমন দাবি করেছেন। তাদের মতে, শিশুদের নাকে করোনাভাইরাস দীর্ঘ সময় পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এবং সেখান থেকে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা বেশি। তবে আরেক দল বিজ্ঞানী বলছেন, শিশুদের নাকে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তার মানে এই নয় যে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তারাও ভাইরাস ছড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রবার্টা দেবিয়াসি অবশ্য বলেন, করোনার বিস্তারে শিশুদের ভূমিকা নেই এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। তবে অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রেই ভাইরাসটি এমন অবস্থায় থাকে, যেখান থেকে অন্যরা সংক্রমিত হলেও তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুরা উভয়েই করোনাভাইরাস ছড়াতে ভূমিকা রাখছে। উভয়ই উপসর্গহীন ও উপসর্গ রয়েছে এমন বাহক দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছে। বায়ুবাহিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে শিশুরা মৃদু আক্রান্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখনো করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই উপসর্গহীন। এমন অবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন করছেন, করোনাভাইরাসের এমন বাস্তবতায় শিশুদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়াটা কতটুকু বাস্তবসম্মত। এমন প্রশ্নের নিরেট উত্তর এখনো বিজ্ঞানীরা দিতে পারছেন না। তবে ডাক্তাররা, শিশুদের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত উন্নতির দিক চিন্তা করে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্কুল খুলে দেওয়ার কথা বলছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত