দ্বিতীয়বারের মতো নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে তার দল লেবার পার্টি। ইতিমধ্যেই ৭৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে বলে দেশটির নির্বাচন কমিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
প্রাথমিক ফলাফলে জেসিন্ডা আর্ডার্নের লেবার পার্টি ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও এখনো এক-চতুর্থাংশ ভোট গণনা বাকি রয়েছে। এদিকে বিরোধী মধ্য-ডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ২৭ শতাংশ ভোট। অপরদিকে গ্রিন পার্টি পেয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ ভোট। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে এই নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে এই ভোট হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে তা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনের আগেই বেশির ভাগ জনমত জরিপ ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, দক্ষতার সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হওয়া প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ভোট শুরু হয়ে শেষ হয়েছে সন্ধ্যা ৭টায়। এর আগে গত ৩ অক্টোবর আগাম ভোটগ্রহণ হয়েছে। এতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। এদিকে বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো দলের পক্ষেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে দেশটিতে মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) ব্যবস্থা চালুর পর এখন পর্যন্ত কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
তবে এই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে জেসিন্ডা আর্ডার্নের দল লেবার পার্টি। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দলটি। ফলে এবারই প্রথমবারের মতো একক দলের সরকার গঠন করতে পারবেন জেসিন্ডা আর্ডার্ন।
এদিকে নির্বাচনে জয়ের পর উচ্ছ্বসিত জেসিন্ডা তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে নিউজিল্যান্ড। তিনি বলেন, আপনাদের এই সমর্থনকে আমরা ব্যর্থ হতে দেব না এবং আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমরা এমন একটি দলে পরিণত হব যা দেশের প্রতিটি জনগণের জন্য কাজ করবে।
