বিনম্র শ্রদ্ধা আর অগণিত মানুষের ভালোবাসায় সারা দেশে গতকাল সোমবার পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করা হয়। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। ছিল ইতিহাস বিকৃতকারীদের রুখে দেওয়ার শপথ। সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহকদের প্রত্যাখ্যান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতে সঠিক ইতিহাসের চর্চার দাবিও ছিল মানুষের মাঝে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও কালো পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ্য এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এছাড়া সারা দেশের শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। শহীদ বেদিতে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে লিপ্ত হয়েছিল ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে। স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতি যেন মেধায়-মননে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় মেতে ওঠে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয় উৎসবের আগে এ দিনটিতে জাতি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়। শীতের সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে সর্বস্তরের জনসাধারণ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল থেকে দুপুর অবধি একটানা চলে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি বছর এ দিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। সকাল ৭টা ১০ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় সালাম জানায়।
আওয়ামী লীগ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখে। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে সকাল ৯টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ১০টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান ও আবদুর রহমান; তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম প্রমুখ। এছাড়া সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীর নেতৃত্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা। এ সময় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে সিকদার প্রমুখ।
মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সকালে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই দিনে ‘গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার’ শপথ নিচ্ছেন তারা। তিনি আরও বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীরা গণতান্ত্রিক, মুক্তবুদ্ধির বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। সেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত পোষণের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দিনে শপথ নিচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, আলমগীর সিকদার লোটন, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা আল মাহমুদ, সুলতান আহমেদ সেলিম, আমানত হোসেন আমানত প্রমুখ। এ সময় জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘শোষণ, নির্যাতন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে চেতনায় দেশের সূর্যসন্তানরা জীবন দিয়েছেন, তা অর্জনের জন্য আগামী দিনে আরও সংগ্রাম করতে হবে।’
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকেল ৫টায় প্রদীপ প্রজ্বালন করে। এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘জাতিকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়নে কাজ করেছিল যে দেশদ্রোহী ঘাতক বাহিনী, তাদেরই উত্তরসূরিরা এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মতো সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত। তাদের প্রতিহত করতে হবে।’ এছাড়া সারা দেশে জোটের শাখা কমিটির আয়োজনে বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতি বছরের মতো এবারও ১০-১৬ ডিসেম্বর সপ্তাহব্যাপী ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক বিজয় উৎসব আয়োজন করেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ভার্চুয়ালি হচ্ছে এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সকাল ৯টায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে মিরপুর মাজার রোডের বড় মসজিদের সামনে থেকে র্যালি করে তারা স্মৃতিসৌধে যান। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন ও কালোব্যাজ ধারণ করে। সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদের সহ-সভাপতি সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান, রোকনুজ্জামান রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুন্নবী প্রমুখ।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সকাল ৯টায় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে কৃষক লীগ। সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির নেতৃত্বে এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ সকাল সাড়ে ৯টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে এবং সাড়ে ১০টায় ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং সাড়ে ১১টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ ছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিবীজীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ব্লকে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসকদের তালিকা সংবলিত বেদির সামনে এবং পরে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও কর্মচারীরা।
বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে সকালে মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ১৪-১৬ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বুদ্ধিজীবী দিবসের সকালে স্মৃতিসৌধের বেদিতে এবং বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
সারা দেশে বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত : বিনম্র শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল সারা দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। বিস্তারিত ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে
চট্টগ্রাম : বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ ছাড়া দিনব্যাপী সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন; চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, চুয়েট, সিভাসু, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ; চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ, সিডিএ, ওয়াসা, রেলওয়ে, নগর যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।
খুলনা : সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনলাইনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত আলী, নূর ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রেস ক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ (কেইউজে) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন আলোচনা সভার আয়োজন করে। এর আগে রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নগরীর গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
দিনাজপুর : মৌলবাদবিরোধী আলোচনা সভা ও মানববন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি দিনাজপুর জেলা শাখা। দুপুর ১টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই এবং কবি ও সাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ।
ফরিদপুর : সকাল ৯টায় দিবসটি উপলক্ষে ফরিদপুর শহরের শেখ জামাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন (গণকবরে) শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বুদ্ধিজীবী দিবসকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
গোপালগঞ্জ : শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের পাশে ‘জয় বাংলা পুকুর’ বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান শ্রদ্ধা জানান। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভাইস চ্যান্সেলর ড. এ কিউ এম মাহবুব, উপজেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংগঠন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর শহীদদের গণকবরে ফুল দেওয়া হয়।
জয়পুরহাট : সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পাগলা দেওয়ান ও কড়ই কাদিপুর বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। পরে স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাগুরা : শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে মাগুরায় যুব ঐক্য পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। দুপুরে মাগুরা প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন হয়।
মৌলভীবাজার : জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে সব শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ নেছার আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, পুলিশ সুপার ফারুখ আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জ : সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সুবর্ণ অহংকার চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদার প্রমুখ।
ঝিনাইদহ : দুপুরে শহরের পায়রা চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে মুজিব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর পারভেজ তুষারসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
