সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানিতে বেক্সিমকোর ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি ১৩১ শতাংশ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩৪ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে দেশের উৎপাদনমুখী খাতের অধিকাংশ কোম্পানি আয় হারালেও কিছু কোম্পানি বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো ব্যবসা করতে পেরেছে। সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কার্যকর পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা খুঁজে পেয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট গ্রুপ বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যেখানে অধিকাংশ কোম্পানি তাদের পণ্যের বাজার হারিয়েছে, সেখানে করোনাভাইরাসের সুরক্ষাসামগ্রী উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভালো ব্যবসা করেছে। এর ফলে ২০২০-২১ হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বেক্সিমকো লিমিটেডের আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩১ শতাংশ। এ সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে সাত গুণের বেশি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড গতকাল দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিশ^ব্যাপী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেক্সিমকো লিমিটেডের পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩১ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি পণ্য বিক্রি থেকে আয় করেছিল ৪৩৩ কোটি টাকা।

বেক্সিমকো সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির ব্যবসায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির কারণ ছিল করোনাভাইরাসের সুরক্ষা সামগ্রীর উৎপাদন ও রপ্তানি; বিশেষ করে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি রপ্তানি করে বড় ধরনের মুনাফা করেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে জানান, বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমরা পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনেছি। করোনার সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাথমিক সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি রপ্তানির মাধ্যমে ব্যবসায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এসেছে। পণ্য বিক্রি ও নিট মুনাফা বাড়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি বড় ভূমিকা রেখেছে। এসব পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আরও বাড়ছে।

রপ্তানি আয় বাড়ায় ১৪ জানুয়ারি বেক্সিমকো লিমিটেডকে সর্বোচ্চ রপ্তানির ট্রফি ও সেরা গ্রাহক সম্মাননা দেয় জনতা ব্যাংক। সেদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জনতা ব্যাংক জানায়, ২০২০ সালে বেক্সিমকো লিমিটেড ২ হাজার ৩২৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি করেছে। আর বেক্সিমকো গ্রুপের মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। 

গতকাল প্রকাশিত বেক্সিমকো লিমিটেডের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎপাদন ব্যয়ের পর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রশাসনিক, বিক্রি ও বিতরণ বাবদ ব্যয়ের পর পরিচালন আয় হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪৫ শতাংশ বেশি। এ সময়ে কোম্পানিটি ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় করেছে ১৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ কোটি টাকা বেশি। কর পরিশোধের পর অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেক্সিমকো লিমিটেডের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৫৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৬৯ শতাংশ বেশি। চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ পয়সা।

চলতি অর্ধবার্ষিকীতে বেক্সিমকো লিমিটেডের পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।  চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৯২ পয়সা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৪ পয়সা।

পিপিই, মাস্কে ভর করে বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি ও কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতার কারণে গত ডিসেম্বর থেকেই বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বাড়তে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারের উত্থানের নেতৃত্বেও রয়েছে এই গ্রুপের কোম্পানিগুলো। গত ডিসেম্বর থেকে শুধু বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দর ২৬৫ শতাংশ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে প্রতিদিনের লেনদেনের শীর্ষ তালিকায়ও রয়েছে কোম্পানিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত