বঙ্গবন্ধু ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবনের জয়গান গেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে দেশকে পুনর্গঠন করেছিলেন।’ গতকাল রবিবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানমালার পঞ্চম দিনের আলোচনার স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১০ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। আলোচনাপর্বে জর্ডানের বাদশাহর পক্ষে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান আল সাদাফির ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ সবক্ষেত্রে
অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে দেশের জনগণের সহনশীলতা ও নেতৃত্বের প্রজ্ঞা প্রতিফলিত হয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী, শান্তি বজায় রাখা, আরও উন্নয়ন এবং জনগণের সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি অগ্রগতি অর্জন করবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ওআইসিসহ বহুপক্ষীয় ফোরামেও আমাদের একীভূত কার্যক্রম রয়েছে। সংঘাতমুক্ত, স্থিতিশীল ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই তৎপরতা।
‘দুই দেশের মানুষের সেবার জন্য আমরা পরস্পরের জন্য মঙ্গলজনক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। শরণার্থী সংকট ও সন্ত্রাসবাদের মতো আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও আমরা কাজ করতে চাই একসঙ্গে। দ্বি-রাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যও জর্ডান বাংলাদেশকে নিয়ে কাজ করতে চায় বলে বাদশাহ আব্দুল্লাহর বার্তায় জানানো হয়।’
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নানা সংকট থাকলেও বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাময় নির্দেশনায় দেশ পুনর্গঠিত হতে থাকে। তিনি মাত্র নয় মাসে আমাদের পবিত্র সংবিধান প্রণয়ন করেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। তার পথ ধরে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সময়ের আগেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।’
গতকাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে ছিল বন্ধুরাষ্ট্র চীনের সাংস্কৃতিক আয়োজন। আরও ছিল ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর : শূন্য থেকে মহাশূন্যে (কাব্য, সুর ও ছন্দে কোরিওগ্রাফি), বঙ্গবন্ধুর নবজীবনের ডাক : ধূসর বাংলা থেকে সবুজ বাংলা (পালা, জারি ও গম্ভীরা পরিবেশনা), বিশ্বনেতা ও বিশ্বনাগরিকের সঙ্গে মেলবন্ধন (মিউজিক কোরিওগ্রাফি), নারী জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে বঙ্গবন্ধু (থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফি), শিশু বিকাশে বঙ্গবন্ধু : আলো আমার আলো (১০০ জন শিশুশিল্পীর পরিবেশনা), শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নবজাগরণ : শিল্পের সব বাহনের উৎকর্ষ সাধন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক : ২৮৮ দিন এবং আন্তর্জাতিক সংগীত ধারার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্যান্ড সংগীতের জাগরণ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এছাড়া আজ সোমবার ষষ্ঠ দিনের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি।
