করোনার দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনের বিরুদ্ধে একটি পরিবর্তিত সংস্করণের টিকা আনছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই টিকা আসতে পারে। অস্ট্রিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অস্ট্রিয়ার কান্ট্রি ম্যানেজার সারা ওয়াল্টার্স এই তথ্য জানান।
সারা বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার যে নতুন প্রজাতি পাওয়া গিয়েছে, তাতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পুরনো যে ভার্সন আছে, তা দিয়ে কাজ হচ্ছে না। সে কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে,যাতে ভ্যাকসিনের নতুন ভার্সন তৈরি করা যায়। আশা করা যায়, এই বছরের শেষের দিকে করোনার ওই নতুন ভ্যাকসিন বাজারে চলে আসবে।’
গবেষণা এখন পর্যন্ত যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা হলো দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনার অধিক সংক্রামক ধারাটির বিরুদ্ধে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিদ্যমান টিকা কম কার্যকর। তবে এ প্রসঙ্গে সারা ওয়াল্টার্স বলেছেন, এ ব্যাপারে একটা চূড়ান্ত উপসংহারে যাওয়ার মতো যথেষ্টসংখ্যক গবেষণা এখন পর্যন্ত নেই।
তবুও সম্ভাব্য প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ইতিমধ্যে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটির বিরুদ্ধে একটি পরিবর্তিত সংস্করণের টিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান সারা ওয়াল্টার্স।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন দেশে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ ও চলমান তদন্তের বিষয়টি সরাসরি সারা ওয়াল্টার্সের সাক্ষাৎকারে তোলা হয়নি। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এই টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে চিকিৎসকদের দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার, যাতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে এ টিকার সুফল ও ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) ও ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) বলেছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সার্বিক সুফল যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি।
অ্যাস্ট্রাজেনেকা ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। তারা যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে করোনার একটি টিকা উদ্ভাবন করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য প্রথম অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ টিকার প্রয়োগ চলছে।
