বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ-২৪ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক জামিল হাসান খান খোকনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করছে তার পরিবার।
সোমবার বেলা ১২টায় শহরের কোর্টপাড়ার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবার ও স্বজনরা।
এ সময় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দাবি করে বক্তব্য রাখেন জামিল হাসান খান খোকনের বড় ভাই কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নাফিজ আহমেদ খান টিটু, জামিল হাসানের স্ত্রী কামরুন্নাহার খান। জামিল হাসানের ছেলে জায়েদ হাসান খান, শিশু মেয়ে জামিয়া খান জারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাফিজ আহমেদ খান টিটু বলেন, সাংবাদিক সংগঠনের পদপদবী দখল নিয়ে পূর্ব থেকেই বিবদমান দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার দিন ১২ মে সন্ধ্যায় ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত টাকা-পয়সার ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পূর্বপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন অভিযুক্তরা। সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও স্থানীয় একটি দৈনিক আরশীনগর পত্রিকার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের নেতৃত্বে তার নিজ বাসায় সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল ইনডিপেন্ডেন্ট কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মিলন উল্লাহ সহযোগীদের নিয়ে জামিল হাসান খান খোকনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে সাংবাদিক খোকন অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই খোকন ডিপ কোমায় চলে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অভিযোগে বলা হয়, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি কা হলে সেখানে চিকিকৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মে রাত সাড়ে ১২টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাংবাদিক খোকন।
তিনি বলেন, পরদিন সাংবাদিক খোকনের লাশ দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ভাই হিসেবে বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, মিলন উল্লাাহ, সালমান সাহরিয়ার রাজু ও রাকিবুল হাসানের নামোল্লেখসহ আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু পুলিশ লিখিত অভিযোগটিকে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামিল হাসান খান খোকনের স্ত্রী কামরুন্নাহার খান বাকরুদ্ধ কণ্ঠে দাবি করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার করতে হবে।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবকে ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন উল্লাহ বলেন, দেখুন ঘটনার দিন আকস্মিকভাবেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এটাকে নিয়ে একটা মহল রঙ লাগিয়ে নানা কিছু সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ওনার জন্য আমরাও শোকাহত।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানার ওসি শওকত কবির বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত গতিতে তদন্ত চলছে, যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তবে এই জিডিই মামলা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
