আগামী ১৩ জুন চীনের উপহার দেওয়া আরও ৬ লাখ ‘সিনোফার্ম’ করোনার টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে। সে টিকা আসার পর একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির তৈরি ফাইজার এবং সিনোফার্ম টিকা দেওয়া শুরু করবে সরকার। এই দুই ধরনের টিকার জন্য আলাদা করে নিবন্ধন করতে হবে না। ইতিমধ্যেই যারা নিবন্ধন করেছেন, নিবন্ধনের তারিখ অনুযায়ী তারা এই টিকা পাবেন।
এই দুই ধরনের টিকার মধ্যে ফাইজার পাবেন ঢাকার মানুষ। কারণ এই টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য যে তাপমাত্রার কোল্ডচেইন দরকার, তা ঢাকার বাইরে নেই। এ জন্য ঢাকার চারটি হাসপাতালকে টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফায় উপহার হিসেবে যে ৬ লাখ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে, সে টিকা সারা দেশে দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) লাইন ডিরেক্টর ও করোনার টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১২ মে চীনের উপহার দেওয়া ৫ লাখ সিনোফার্ম টিকা দেশে আসে। পরে গত ২৫ মে ঢাকার চারটি হাসপাতালে ৫০১ জনকে পরীক্ষামূলকভাবে এই টিকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া আগামী ১৩ জুন চীনের উপহার হিসেবে আরও ৬ লাখ সিনোফার্ম টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে। গত ৩১ এপ্রিল কোভ্যাক্স থেকে আসে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা ও ভারত সরকারের উপহার মিলে এ পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘কভিশিল্ড’ টিকা এসেছে ১ কোটি ২ লাখ। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে কভিশিল্ড টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৩ হাজার ১৯৩ ডোজ। বর্তমানে মজুদ আছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টিকা। প্রথম ডোজ নিয়েছেন এমন প্রায় ১৪ লাখ টিকাগ্রহীতা কভিশিল্ড টিকা পাচ্ছেন না।
ঢাকার চার হাসপাতালে ফাইজারের টিকা : ফাইজারের টিকা দিতে রাজধানীর চারটি কেন্দ্র ঠিক করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। কেন্দ্রগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রো-লিভার হাসপাতাল, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৩ জুনের পর থেকে কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজারের করোনাভাইরাসের টিকার পাশাপাশি যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মের টিকাদান কার্যক্রমও শুরু হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস মিলনায়তনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ফাইজারের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। গতকাল রাতেই ফাইজারের টিকার অন্যতম উপাদান ডাইলুয়েন্ট আসার কথা। ডাইলুয়েন্টের সঙ্গে মিশিয়ে এই টিকা দিতে হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করছি সিনোফার্মের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা ১৩ জুন আসবে। সেই টিকা এলে ফাইজার ও সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু হবে। এই টিকা আমরা কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে দিচ্ছি না। যারা টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন তাদের সিরিয়ালি দেওয়া হবে।
এর বাইরে আরও দেড় কোটি ডোজ টিকা আনতে সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
১৩ জুনের পর একসঙ্গে ফাইজার ও সিনোফার্ম টিকাদান : টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিনোফার্মের ৬ লাখ টিকা এলে, সিনোফার্ম ও ফাইজারের টিকা একসঙ্গে দেওয়া হবে। এর আগে যে ৫ লাখ সিনোফার্মের টিকা এসেছে, সেটাও একসঙ্গে শুরু করা হবে। ১৩ জুনে চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের টিকা এলে, সবমিলে সারা দেশে দেওয়া শুরু করব। সেক্ষেত্রে ফাইজারের টিকা ঢাকার কতটি কেন্দ্রে দেওয়া হবে, সেটা এখনো ঠিক হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন্দ্র ঠিক করে দেবে।
