সাংবাদিকদের দুদক সচিব

অভিযোগ অনুসন্ধানের পর হুইপ সামশুলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ১২:০৬ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেছেন, ক্যাসিনো কারবারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের রুটিন কাজের অংশ। আমরা আজও (গতকাল) আদালতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মুনীম মোসাদ্দিক আহম্মেদ ও মোহামেডান ক্লাবের সাবেক সভাপতি লোকমান হোসেনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছে। দুদক সচিব গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে গত ১৩ জুন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনকে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা দেওয়া হয়। হুইপ সামশুল ছাড়াও আদালত সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান সাজ্জাদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

অনুসন্ধান শুরুর পর ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সামশুল হকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

দুদকের ক্যাসিনো সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক এমডি আবদুল মুনীম মোসাদ্দিক আহম্মেদ ও মোহামেডান ক্লাবের সাবেক সভাপতি লোকমান হোসেনেরও বিদেশযাত্রায় নিষেধজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুদকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়ায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গতকাল আদালতে আবেদন করেছিল দুদক। দুদকের পরিচালক (ক্যাসিনো সংক্রান্ত অনুসন্ধান টিমের প্রধান) সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

২০১৯ সালের ২৪ জুলাই ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে ক্যাডেট পাইলট নিয়োগসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মোসাদ্দিক আহম্মেদকে তলব করে দুদক। অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে তাকে ৩০ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। বিমানের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিমানের সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত এমডি ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিলকেও সে সময় তলব করা হয়। তাকে ২৯ জুলাই দুদকে হাজির হতে বলা হয়। একই দিন হাজির হতে বলা হয় বিমানের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার বিনীত সুধ, পরিচালক (মার্কেটিং ও সেলস) আশরাফুল আলম, পরিচালক (প্ল্যানিং) মাহবুব জামান খান ও চিফ অব ট্রেইনিং ফজল মাহুমুদ চৌধুরীকে। ২৮ জুলাই তলব করা হয় বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) পার্থ কুমার পণ্ডিত, পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) সাজ্জাদুর রহিম, পরিচালক (কাস্টমার সার্ভিস) মমিনুল ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) বুশরা ইসলামকে।

একই বছরের ২ মে বিমানের ১০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবর চিঠি পাঠায় দুদক। এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওসি (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।

মোসাদ্দিক আহম্মেদ ছাড়াও জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার-বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি ও বিমানের সিবিএ নেতা মশিকুর রহমান, গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার জি এম জাকির হোসেন, মিজানুর রহমান ও এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, কমার্শিয়াল সুপারভাইজার রফিকুল আলম ও গোলাম কায়সার আহমেদ, জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার মারুফ মেহেদী হাসান এবং কমার্শিয়াল অফিসার জাওয়েদ তারিক খান ও মাহফুজুল করিম সিদ্দিকীর ওপরও দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনার কারণে দেশত্যাগে বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার জন্য বিচারিক আদালতের অনুমতি নিতে হচ্ছে দুদককে।

ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থেকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদক একটি টিম করে কাজ করছে। টিমের প্রধান হচ্ছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। টিমের সদস্যরা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, মো. সালাহউদ্দিন, গুলশান আনোয়ার প্রধান; সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান ও নেয়ামুল আহসান গাজী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত