কারদোনার নেওয়া কলম্বিয়ার পঞ্চম শট রুখে দেওয়ার পর দৌড়ে গিয়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে জড়িয়ে ধরলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হাতে কজন খেলোয়াড়-স্টাফের হর্ষধ্বনি দর্শকহীন ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামকে আলোড়িত করছে। অনেকক্ষণ জড়িয়ে রাখলেন মেসি নতুন এই সতীর্থকে। মেসির কাছে মার্তিনেজের বীরত্বের গুরুত্ব অন্যরকম। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে শিরোপাহীন কাটতে কাটতে ক্যারিয়ারই শেষ প্রায়; ৬ বারের বর্ষসেরার নামের পাশে যা মানায় না। তাই মরিয়া ছিলেন তিনি এই ফাইনালের জন্য। রবিবার ঐতিহাসিক মারাকানায় স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে যদি জেতা যায় কোপা আমেরিকার শিরোপা, নিন্দুকদের জবাব তো দেওয়া যাবে। ১৮ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর সুযোগটা এনে দেওয়ায় মার্তিনেজকে তাই অমন আবেগে জড়িয়ে ধরা মেসির। ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা। সে লক্ষ্য অর্জিত হলো বলে বেশ রোমাঞ্চিত। অন্য যেকেনো সময়ের চেয়ে শিরোপা জয়ের জন্য বেশি উন্মুখ আমরা’ বলেছেন মেসি।
শুধু যে টাইব্রেকার ঠেকিয়েই নায়ক মার্তিনেজ তা নয়। আগ্রাসী ফুটবলে বারবার আর্জেন্টাইন রক্ষণ টালমাটাল করে দিয়েছিল কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার পোস্ট লক্ষ্য করে কলম্বিয়ার চার শটের একটি গোল হয়েছে। বাকি তিনটি কিন্তু ঠেকিয়েছিলেন মার্তিনেজ। তার আগে আরেকবার মুগ্ধ হতে হয়েছে মেসি জাদুতে। চতুর্থ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ছোট্ট ক্রস ফেলেন অধিনায়ক গোলমুখে। কিন্তু নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। তিন মিনিট পর অবশ্য ঠিকই লাউতারো মার্তিনেজকে দিয়ে গোল করিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সতীর্থের বাড়ানো বল বক্সে ঢুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আড়াআড়ি পাস দেন মার্তিনেজকে। ইন্তার মিলান ফরোয়ার্ড জালে জড়িয়ে উদযাপন করেছেন টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল। তিন গোলেরই সহযোগী ছিলেন মেসি। এ নিয়ে পাঁচ অ্যাসিস্টে কোপার ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন মেসি।
বিরতির পর তিন পরিবর্তন করে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ৬১ মিনিটে সাফল্য পায় কলম্বিয়া। সতীর্থের ফ্রিকিক ডি-বক্সে পেয়েই নিখুঁত শটে গোল করেন লুইস দিয়াস। লিড হারানোর পরপরই ডি মারিয়াকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাতেই আক্রমণের গতি বাড়ে আলবেসিলেস্তাদের। ৭৩ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ ডি মারিয়ার সাজিয়ে দেওয়া বল ফাঁকা পোস্টে রাখতে ব্যর্থ হন। ৮১ মিনিটে ডি মারিয়ার আরেকটি অসাধারণ থ্রু বক্সে পেয়ে মেসি শট নেন। কিন্তু তা সাইডবার কাঁপালে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে নায়ক মার্তিনেজ। মেসি নিজেও গোল করেছেন। তবে স্মরণীয় জয়ের পর ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি, ‘এমন একটা গ্রুপের অংশ হয়ে আমি গর্বিত ও সুখী। আরেকটা লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা আমাকে এই মুহূর্তগুলো উপহার দেওয়ার জন্য। এবার চলো গৌরব অর্জনের অভিযানে।’
নেইমার ফাইনালে ওঠার পর বলেছিলেন, ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে চান তিনি। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেছেন, ‘আমি জানি নেই (নেইমার) এটা কেন বলেছে। আমরা দুজন খুব ভালো বন্ধু। এ কারণেই সে চেয়েছে আমিও যেন ফাইনালে উঠি।’ কিন্তু নেইমার যে হুমকি দিয়ে রেখেছেন শিরোপা ব্রাজিলই জিতবে? মেসি বলেন, ‘আমি ও নেইমার দুজনেই এখন ফাইনালে। ফাইনালের লড়াই হবে সমানে সমান। দু’দলের জন্যই ম্যাচটা কঠিন হবে।’
