নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতীরের প্রায় পাঁচ বিঘা সরকারি জমি দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। হোসেন মাহমুদ নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী টিনের বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ওই জমি সম্প্রতি তার দখলে নেন। তার মধ্যে কিছু অংশ তিনি বালু দিয়ে ভরাটও করে ফেলেছিলেন। নদীতীরের এ জমি দখলের বিষয়ে গত ২৩ আগস্ট দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল বুধবার সেখানে অভিযানে যায় রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একটি দল।
জানা গেছে, গতকাল সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একটি দল মিঠাবো মৌজার হাটাব শীতলক্ষ্যা তীরে অভিযানে যায়। দলটি ব্যবসায়ী হোসেন মাহমুদের দখলে থাকা সরকারি জমি দখলমুক্ত করে। অভিযানে অংশ নেন সার্ভেয়ার মশিউর রহমান, জামাল উদ্দিন ও আবদুল খালেক এবং নাজির নাসির উদ্দিন ও তহসিলদার আবুল কালাম। এ সময় সরকারি জমি দখলমুক্ত করায় এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়। এছাড়া দখলমুক্ত করা জমি যাতে ফের প্রভাবশালী মহল দখল করতে না পারে সেজন্য সজাগ দৃষ্টি রাখারও আহ্বান জানায় তারা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম জানান, ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৮২ শতাংশ এবং শীতলক্ষ্যা নদীর জমি মিলিয়ে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে এলাকাবাসী সবজি ও আখসহ বিভিন্ন ফষল চাষ করত। প্রায় ৭ কোটি টাকা দামের এই জমি ব্যবসায়ী হোসেন মাহমুদ তার লোকজনকে দিয়ে টিনের বেষ্টনী স্থাপন করে দখলে নেন। এ নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এছাড়া এলাকাবাসীও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে। রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহানের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরকারি জমি দখলের প্রমাণ পায়। সেদিন তাৎক্ষণিক সরকারি ওই জমিতে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫ আগস্টের মধ্যে দখল করা সরকারি জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার জন্য হোসেন মাহমুদ ও শাহ নেওয়াজ নামে দুই ব্যক্তিকে নোটিস দেওয়া হয়। নির্ধারিত ওই সময়ের মধ্যে জমি দখলমুক্ত না করায় গতকাল সকালে অভিযান চালিয়ে টিনের বেষ্টনী ভেঙে ফেলে সরকারি জমি উপজেলা প্রশাসনের দখলে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দখলমুক্ত হওয়া ওই সরকারি জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে কি না জানতে চাইলে রূপগঞ্জের ইউএনও শাহ নুসরাত জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার পর অন্যান্য জায়গায় আরও সরকারি সম্পত্তি দখলে আছে কি না সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে অভিযান চলমান থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প আশ্রয়ণের জন্য আমাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দখলমুক্ত হওয়া সরকারি সম্পত্তি যদি ঘর করার মতো উপযোগী হয় তাহলে আমরা জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
এলাকাবাসী জানায়, ঢাকার ইন্দিরা রোড এলাকার প্রয়াত আবদুল করিমের ছেলে ব্যবসায়ী হোসেন মাহমুদ বেশ কয়েক বছর ধরেই মিঠাবো মৌজার হাটাব শীতলক্ষ্যা তীরে খ- খ- করে জমি কিনে আসছিলেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও রূপগঞ্জে তার রয়েছে ৮০-১০০ জনের নিজস্ব বাহিনী। এ বাহিনীর লোকজন দিয়েই সরকারি প্রায় পাঁচ বিঘা জমি জবরদখল করেন হোসেন মাহমুদ। তার জমি দখলের এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক দেশ রূপান্তরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
