ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেও ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার অগ্রিম মূল্য সরাসরি গ্রহণ করা যাবে না। এমনকি কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবেও এই অর্থ সরাসরি গ্রহণ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসক্রো সার্ভিস সংক্রান্ত নির্দেশনা এড়ানোর জন্য কিছুসংখ্যক ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্য বা সেবা মূল্যের অগ্রিম অর্থ সরাসরি গ্রহণ করছে। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর নির্দেশনা অমান্য করে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কোম্পানি বা কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে পণ্য বা সেবা মূল্যের অগ্রিম বাবদ অর্থ সরাসরি জমা গ্রহণ করা যাবে না।
এরূপ ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত ট্রানজেকশন প্রোফাইলের যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই, লেনদেনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ তদাকরি নিশ্চিত করে লেনদেন পরিচালনা করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ৪ জুলাই অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালায় সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি পারসন বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করার মতো অবস্থায় নেই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যের ১০ শতাংশের বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিসের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে।
এর আগে গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে এসক্রো সার্ভিস সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, যেসব ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের পণ্য বিক্রি করে সেসব প্রতিষ্ঠান পণ্যের অগ্রিম মূল্য সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে না। এই অর্থ পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইওয়ালেটের মাধ্যমে সেটেলমেন্ট হলে তা পেমেন্ট গেটওয়ে বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকবে। পণ্য ডেলিভারির পর ওই অর্থ পাবে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।
মূলত ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিংয়ের মতো কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের প্রলোভন দিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য দেরিতে সরবরাহ করায় এ খাতের গ্রাহকরা ঝুঁকির মধ্যে পড়লে এসক্রো সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
