স্কুল-কলেজে সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৮ এএম

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে বেশ কিছু সতর্কতা দিয়েছে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কমিটি বলছে, কমপক্ষে ৮০ ভাগ শিক্ষক-কর্মচারীর টিকা নিশ্চিত করতে হবে। যারা দ্বিতীয় ডোজ নেবেন তারা ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সবাইকে মাস্ক পরার আওতায় আনতে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। গত সোমবার রাতে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর তিন ফুট দূরত্ব রেখে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসানো হবে। ২০২১ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছয় এবং ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের দুদিন করে ক্লাস নেওয়া হবে। এছাড়া অন্যান্য স্তরের ক্লাস এক দিন করে সোম থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার স্কুল-কলেজের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি মৌলিক রুটিন প্রণয়ন করেছে মাউশি। আজকালের মধ্যে এ রুটিন মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কবে কোন দিন কাদের ক্লাস নেওয়া হবে সে বিষয়ে একটি মৌলিক রুটিন তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুসরণ করে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকরা মৌলিক ক্লাস রুটিনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এটি অনুসরণ করে তারা ক্লাস করাতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। নতুন রুটিন অনুযায়ী, ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে শনি থেকে বৃহস্পতিবার দুটি বিষয়ের চারটি ক্লাস নেওয়া হবে। ২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শনি ও রবিবার দুটি বিষয়ের চারটি ক্লাস হবে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস সোম, সপ্তম শ্রেণির মঙ্গল, অষ্টম শ্রেণির বুধ ও নবম শ্রেণির ক্লাস বৃহস্পতিবার নেওয়া হবে। মাধ্যমিকের সব স্তরে প্রতিদিন দুটি বিষয়ের চারটি করে ক্লাস করানো হবে।

তারা জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজে প্রভাতী শিফট সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ও দিবা শিফট দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। একটি শিফট শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিরতি দিতে হবে। নতুন এই রুটিনে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ক্লাস ৪০ মিনিট করে নেওয়া হবে। যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তর যুক্ত রয়েছে সেখানে এ সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্লাস রুটিন তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে ক্লাসে তিন ফুট দূরত্বে বসাতে হবে।

এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে করণীয় নিয়ে গাইডলাইন দিয়েছে মাউশি। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকায় কভিড-১৯ রোগের পরবর্তী সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, সারা দেশে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সংক্রমণ হারে উন্নতি দেখা হচ্ছে। সরকার যদি স্কুল এবং অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেয়, সে ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যকÑ

১. প্রি-স্কুল ছাড়া সব স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে। ২. সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করা এবং ব্যত্যয় হলে সে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারীর করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে এবং তারা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। ৫. শ্রেণিকক্ষে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ক্লাস কোনটি সপ্তাহের কোন দিন হবে তা বিভক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত প্রাতঃসমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার। এছাড়া প্রথম দিকে স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যেতে পারে, যাতে করে খাবার গ্রহণের জন্য মাস্ক খোলার প্রয়োজন না হয়।

আবাসিক সুবিধা সংবলিত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিচের পরামর্শগুলো প্রযোজ্য (মাদ্রাসাসহ)

ক. সব সমাবেশ স্থানে (ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম ইত্যাদি) বন্ধ রাখা, রান্নাঘর থেকে রুমগুলোতে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা। খ. একাধিক শিক্ষার্থী একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে। গ. মাদ্রাসায় একসঙ্গে নামাজ, সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা। ঘ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে করণীয় এবং বর্জনীয় কাজ সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মচারীদের একটি ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। এই ওরিয়েন্টেশন সীমিত উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে সশরীরে আয়োজন করা যেতে পারে, তবে প্রয়োজনে অনলাইন সেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ সংক্রান্ত তথ্য সংবলিত লিফলেট তৈরি ও বিতরণ করা এবং করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো মিডিয়া ও স্থানীয় কেব্ল লাইনের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর কভিড-১৯-এর লক্ষণ থাকবে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন থাকাকালে তাদের শুশ্রƒষার জন্য নির্দেশনা এ ওরিয়েন্টেশনে থাকতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর রোগের লক্ষণ পাওয়া যাবে অথবা তাদের পরিবারের কারও এরকম লক্ষণ থাকবে অথবা কভিড-১৯ রোগ পাওয়া যাবে তাদের অনুপস্থিত গণ্য না করে ১৪ দিন বাড়িতে থাকার অনুমতি দিতে হবে। ঙ. স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীর মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও দৈনিক রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচিত কিছু স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা ও সার্ভিল্যান্সের প্রটোকল তৈরি এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব জেলায় ল্যাব আছে সেসব জেলার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ সার্ভিল্যান্সের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। যেসব জেলায় সংক্রমণের হার বেশি, শনাক্তের হার >২০% বা কেসের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা (আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ৩০% বেশিসংখ্যক কেস), সেই জেলাগুলোতে আরও নিবিড় সার্ভিল্যান্স থাকা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের দ্বারা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। চ. সব বিধিনিষেধ সুষ্ঠুভাবে পালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে দৈনিক মনিটরিং করতে হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪৫তম অনলাইন সভা হয়। সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত