ই-কমার্সের নামে কেউ যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য গ্রাহকদের ‘লোভ সংবরণে’ সচেতন করতে প্রচারের পরামর্শ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার একটি রিট আবেদনের শুনানিককালে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত আইনজীবীদের জনস্বার্থে এ বিষয়ে প্রচারের পরামর্শ দেয়।
নাগরিকের ফোনালাপে আড়িপাতা রোধে গ্রাহকদের সচেতন করতে পরামর্শ হাইকোর্টের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনাগুলোর তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি ও আদেশের দিন ধার্য ছিল গতকাল। শুনানি শেষকালে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম. ইনায়েতুর রহিম রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের কাছে ই-কমার্সের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে শিশির মনির আদালতকে বলেন, দেশে ই-কমার্স ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে। ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো ই- কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অফার দিয়ে থাকে। গ্রাহকরা তখন অতি লোভের বশবর্তী হয়ে নানা প্রতারণার শিকার হন।
এ আইনজীবী বিশ্লেষণ করে আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রথমে অফার দেবে একটা মোটরসাইকেলের টাকায় দুটি মোটরসাইকেল। এরপর গ্রাহকরা টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল পাবেন। গ্রাহকের এ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে দিয়ে অনলাইনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে যায়। এরপর আবার দুটি কিনলে আরও দুটি ফ্রি এমন অফার আসতে থাকে। কিন্তু একপর্যায়ে গ্রাহক যখন লোভের বশবর্তী হয়ে আরও অধিক পণ্য পেতে টাকা দেন তখন পণ্য আর আসে না। এভাবে লোভে পড়ে তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’
এ সময় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম মন্তব্য করেন, ‘আপনারা তো (আইনজীবী) জনস্বার্থে মামলা করেন। আপনাদের উচিত এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা, তারা যেন লোভে না পড়েন।’ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা টাকা দিয়েছেন তারা এরকম অস্বাভাবিক অফারে লোভের বশবর্তী হয়ে সাড়া দিয়েছেন। যারা অফার দিয়েছে তারাও ভুয়া অফার দিয়েছে। প্রথমবার কিংবা দ্বিতীয়বার অনেকে পণ্য পেলেও এরপর আর পায়নি। তখনই অনেকের টনক নড়েছে যে টাকা গিয়েছে কিন্তু পণ্য তো আসেনি। টাকা যারা নিয়েছে সেই টাকাটা কী করল সেটা একটি বিষয়। তাদের ব্যাংক হিসাবে তো টাকা নেই। আদালতে এটিই বলতে চেয়েছি। আদালত তখন বললেন, গ্রাহকরা তো লোভে পড়ে এটা করেছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে বলেছেন হাইকোর্ট।’
ফোনে আড়িপাতা নিয়ে রিট আবেদনের আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর : এদিকে ফোনালাপে আড়িপাতা রোধে নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদনের আদেশের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর (গতকাল) ধার্য রেখেছিল হাইকোর্টের এই বেঞ্চে। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদেশের জন্য আসে। এ সময় রিট আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিপুল বাগমার রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য ধার্য রাখে।
