সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

আমার পরিবারের কেউ জমি অধিগ্রহণে জড়িত নয়

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫৩ এএম

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের আর্থিক কোনো সম্পর্ক নেই। একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এই বিষয়ে আমার ভাই ও আমাকে রাজনৈতিকভাবে জড়ানো হয়েছে। তবে আমি খুব স্পষ্টভাবে কিছু তথ্য জানাতে চাই সেটি হলো চাঁদপুরে আমার ক্রয়সূত্রে কোনো জমি নেই। উত্তরাধিকার সূত্রে আমার পৈতৃক ভিটায় জমি থাকতে পারে, কিন্তু আমার কোনো জমি নেই।

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিজের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীতে সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তিনি সেখানে তার নিজের ও পরিবারের কারও জমি নেই দাবি করেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত চেয়েছেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রিপোর্টে আমার ভাই ডা. টিপুর নাম এসেছে। তিনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি আমার বড় ভাই। তিনি একটি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম করতে কিছু জমি কেনেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রকাশিত রিপোর্টে এখানে আরও কিছু মানুষকে আমার পরিবারের সদস্য বলা হয়েছে। তারা আমার রক্তের সম্পর্কের সদস্য নয়। কিন্তু তারা আমার রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। আমি জানি না আমার রক্তের সম্পর্কের সদস্যরা আমার জন্য কোনো ঝুঁকি নেবেন কিনা! কিন্তু আমার রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা আমার জন্য ঝুঁকি নেবেন।

এমন তথ্য সরবরাহে ও প্রচারে চাঁদপুরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কোনো ইন্ধন আছে কিনা এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখনই আমি কিছু এ বিষয়ে বলতে চাই না। দলীয় ফোরামে আমি এটি উত্থাপন করব।

জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জমির মূল্য নির্ধারণ করেন জেলা প্রশাসক। এখানে ৬২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ১৩ জনের একটি কমিটি করে প্রাক্কলন করা হয়। এর বাজারমূল্য ১৯৩ কোটি টাকা। এর আগে এর প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫৫৩ কোটি টাকা। আমি মোটা দাগে যেটা বুঝি ১৯৩ কোটি টাকার ২০ গুণ কখনই ৫৫৩ কোটি টাকা নয়।

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি ভাঙনপ্রবণ জায়গা। এখানে স্থাপনা টিকবে না এমন অভিযোগের বিষয় ছিল। তবে চাঁদপুর শহর ভাঙনের কারণে অনেক ছোট ও অনেক ঘনবসতি। আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সমস্যা হলে হাইওয়ে বন্ধ  হয়ে যায়। সেই বিবেচনায় আমরা জমিটি পছন্দ করি। এছাড়া আমরা কোথায় জমি পছন্দ করছি, সেটার সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও জড়িত ছিল।

এ সময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই জমির সঙ্গে টেকসই বাঁধ রয়েছে। এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও ছিল।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের বিষয়েও একই সমস্যার কথা অনেকে তুলেছিলেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আসলে যখনই কোনো বড় প্রকল্প শুরু হচ্ছে তখনই এমন বাধা আসছে।

এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করা হবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে না। ভূমি মন্ত্রণালয় চাইলে তদন্ত করতে পারে। তবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত