আমানত সুরক্ষা আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বীমার আওতায় আসবে ৯৫ শতাংশ আমানতকারী

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৩৬ এএম

ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমার আওতায় আনার প্রবিধান রেখে ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ পাস করতে যাচ্ছে সরকার। এতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৫ শতাংশ আমানতকারীর আমানত বীমার আওতায় আচ্ছাদিত থাকবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গতকাল রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যাংকের পাশাপাশি এনবিএফআইগুলোও এখন আমানত সংগ্রহ করায় এ খাতের গ্রাহকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন’ পরিবর্তন করে ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ করছে সরকার। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগের আইনে কেবল ব্যাংকের আমানতকারীদের সেইফটির বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমানে লিজিং কোম্পানিগুলোও আমানত নিচ্ছে। এ কারণে লিজিং কোম্পানিগুলোকেও আমানত বীমার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

নতুন আইনের অধীনে ব্যাংক ছাড়াও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমাকৃত আমানতের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম জমা দিয়ে আমানতকারীদের বীমার আওতায় আনা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকের মতোই একই হারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতের প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হবে। কেননা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের সুরক্ষা পাবে।

জানা গেছে, আমানত বীমা আইনের আওতায় প্রতিটি ব্যাংক বর্তমানে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮ পয়সা প্রিমিয়ার হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দেয়। বছরে দুইবার এই প্রিমিয়ার জমা দেওয়া যায়। বর্তমানে আমানত বীমা তহবিলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা রয়েছে। এই তহবিলের অর্থ অলস না রেখে এ দিয়ে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স ডিপার্টমেন্ট। 

এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়িত হলে ওই বীমার আওতায় আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমার আওতায় এলে দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমানতকারী এই সুরক্ষার মধ্যে চলে আসবে। কেননা, ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতধারী মোট আমানতকারীদের ৯৫ শতাংশ। এত দিন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমার আওতায় থাকায় ৯২ শতাংশ আমানতকারীর আমানত সুরক্ষার আওতায় ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে বা অবসায়িত হলে এবং ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরত দেওয়ার মতো তহবিল না থাকলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বীমার আওতায় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি গ্রাহককে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের আরও বলেন, এত দিন প্রতিটি ব্যাংকের গ্রাহকদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমার আওতায় ছিল। এখন অর্থনীতির আকার বড় হওয়ায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন আইনে ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমার আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে এই বীমার অঙ্ক বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই বাড়াতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এর থেকে বেশি অঙ্কের আমানতও বীমার আওতায় আনতে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত