যুদ্ধ পরিস্থিতি, নানা ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বিশে^র প্রধান আর্থিক লেনদেন পরিষেবা বন্ধ থাকার পরও রাশিয়া থেকে সার কেনার একটি প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপের মুখে থাকা রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সার কেনার এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন ‘প্রডিনটর্গ’ থেকে এ সার আমদানি করবে। এজন্য সরকারের ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজার ২২০ টাকা।
রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার ওপর। রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংককে বিশ্বের প্রধান আর্থিক লেনদেন পরিষেবা সুইফট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের মিত্ররা। এমনকি অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ছাড়া রাশিয়াকে আর কোনো সেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশে্রব শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইনগুলো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া থেকে সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাব অনুমোদনের পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে না বলে তিনি আশাবাদী আর তখন রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির সংকটও কেটে যাবে।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা বরাবরই তাদের কাছ থেকে সার নিয়ে আসছি। এজন্য এবারও চেষ্টা করছি তাদের কাছ থেকে আনার জন্য। রাশিয়া যদি কোনো কারণে সার না দেয়, তাহলে বিকল্প পথ খোঁজা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু তার আগপর্যন্ত আমরা তাদের কাছ থেকেই আনার চেষ্টা করব।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া কীভাবে এই সার সরবরাহ করবে বা বাংলাদেশ কেন এই মুহূর্তে রাশিয়া থেকে সার কেনার সিদ্ধান্ত নিল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে সুইফট সিস্টেম কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে আমরা আশা করি, যুদ্ধ থেমে যাবে, খুব লম্বা সময় চলবে না। সেই হিসাবেই সেখান থেকে সার কেনার চেষ্টা করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সুইফটের কারণে যদি আমরা পেমেন্ট করতে না পারি, তাহলে আমাদের কারেন্সি সোয়াপ করে অন্যরকম ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো না কোনো একটা ব্যবস্থা বেরিয়ে আসবে। আর তা না হলে বিকল্প উৎসের কথাও বলেন তিনি। তবে আমরা চাই, মানবতার স্বার্থে এই যুদ্ধ বন্ধ হোক। বিশ্বের মানুষ যেন শান্তি পায়, সেটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সারের চাহিদার বড় একটি অংশ আমদানি করে মেটায়। আর রাশিয়া থেকে আগেও সার আমদানি করা হয়েছে।
রাশিয়া থেকে সার আমদানি ছাড়াও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কাফকো বাংলাদেশের কাছ থেকে ১৪৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকালের বৈঠকে সার কেনার প্রস্তাবসহ মোট ১১টি প্রস্তাবে ১ হাজার ৪৫২ কোটি ৬৪ হাজার ৩৭৮ টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ৬০০ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৫১১ এবং দেশীয় ব্যাংক ও বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ থেকে ৮৫১ কোটি ৯৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৭ টাকা আসবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শুমারি কাজের জন্য ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে গম সংরক্ষণের জন্য একটি স্টিল সাইলো নির্মাণে ৫৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৩৪ টাকায় কাজ দেওয়া হয়েছে কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্য জিএসআই গ্রুপকে।
