সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রীর ভাই বাবর গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ০১:৫৯ এএম

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের আলোচিত মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ফরিদপুরের সাবেক জনপ্রতিনিধি খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই। গত সোমবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি আবাসিক এলাকা থেকে বাবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়। মোহতেশাম হোসেন বাবর সর্বশেষ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। এক সময় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

যে মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলও একই মামলার আসামি।

২০২০ সালের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লাবাড়ি সড়কে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলা হয়। পরে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তিনি। ওই ঘটনার পর ৭ জুন রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন বরকত ও রুবেল। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অর্থ পাচারের খবর একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে। তখন এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলাও হয়।

অর্থ পাচারের অভিযোগে ওই বছরের ২৬ জুন রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এসএম মিরাজ আল মাহমুদ। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩ মার্চ ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস। যাতে বরকত, রুবেল, বাবরসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়। ফরিদপুরে এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

মামলাটির অন্য আসামিরা হলেন ফরিদপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এএইচএম ফুয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান ফারহান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম। আসামিদের মধ্যে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম ছাড়া বাকি সবাই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বাবরের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা, কোতোয়ালি থানার ওসি এমএ জলিল ও ডিবির ওসি রাকিবুল ইসলামসহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডার বাণিজ্য ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করত বাবর। এছাড়া শহরে গড়ে ওঠা হেলমেট বাহিনী ও হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা বাবরের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হতো।’

এদিকে বাবরের গ্রেপ্তারের খবরে ফরিদপুর আওয়ামী লীগের একটি অংশ গতকাল শহরে আনন্দ মিছিল করে। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামিম হক ও ফরিদপুর পৌর মেয়র অমিতাভ বোস। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইমাম উদ্দিন স্কয়ারে গিয়ে সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত