ভয়াবহ খাদ্য সংকটে শ্রীলঙ্কা বিক্ষোভে বাড়ছে সমর্থন

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ০২:৩২ এএম

শ্রীলঙ্কা সরকার অর্গানিক কৃষির জন্য সার আমদানি বন্ধ করে দেয়। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েন। সার না দেওয়ায় ফলন অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে খাদ্য আমদানি করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ সরকারের নেই। ফলে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। খবর আলজাজিরার।

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে হাম্বানটোটা জেলার কৃষক মাহিন্দা সামারাবিক্রমা (৪৯) জানান, এ মৌসুমে ধান চাষ করবেন না তিনি। কারণ সরকার রাসায়নিক সার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর গত মৌসুমে ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে যায়। ২০ একর জমিতে ধান ও কলা লাগালেও ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। ফলে কৃষি খামার চালানোর মতো কোনো অর্থ নেই তার। মাহিন্দা বলেন, ‘সবকিছু ভেঙে পড়েছে। কী করব জানি না। একবার আকাশের দিকে আর একবার জমির দিকে তাকিয়ে শুধু অপেক্ষা করছি।’

জেলার সামারাবিক্রমার গ্রামের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকও মাহিন্দার সুরে কথা বলেন। তারা এ মৌসুমে আর ফসল ফলাতে চান না। মে থেকে আগস্ট দেশটির ফসল বোনার সময়। কিন্তু এখন আর মাঠে সেচ দিতে চাইছেন না কৃষকরা। তারা বলছেন, রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করায় ফসল ফলছে না। এর বাইরে জ্বালানি সংকটের কারণে চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেশটির ‘মুভমেন্ট ফর ল্যান্ড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার রিফর্ম’ নামের  বেসরকারি সংগঠন বলছে, হাম্বানটোটার অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক এবং উত্তরাঞ্চলের অনুরাধাপুরা ও পোলোনারুয়ার মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলের কৃষকরা এ মৌসুমে তাদের চাষাবাদ বন্ধ রাখছেন। এ অবস্থায় খাদ্য সংকটে ভুগতে থাকা শ্রীলঙ্কা আরও বেশি অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি দেশটি স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন খাদ্যশস্য সংকটেও পড়ে যেতে পারে।

শ্রীলঙ্কা কাউন্সিল ফর অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ পলিসির প্রেসিডেন্ট গামিনি সেনানায়েকে বলেন, ‘খাদ্যের দিক থেকে আগামী কয়েক মাস খুব কঠিন সময় আসবে। খাদ্য সংকট দেখা দেবে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এদিকে শ্রীলঙ্কায় দুই বেলা খাবারের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছেই। চলমান সংকটে বেকারসহ অসংখ্য মানুষ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। গত বুধবার বেকার ও কয়েকশ দিনমজুর কলম্বোতে একটি বেসরকারি সংস্থার খাবার নিতে লাইনে দাঁড়ান। সংস্থাটির কর্মী আকুশলা ফার্নান্দো বলেন, ‘৯ এপ্রিল থেকে আমরা খাবার বিতরণ করছি। আমরা চাই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করুন। তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছেন না এবং দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন।’

সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে জনগণকে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুতের আহ্বান জানান।

২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার শ্রীলঙ্কা এক সময় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু গত মে মাসে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ঘোষিত বিশ্বের প্রথম অর্গানিক বা জৈব কৃষিনীতির কারণে ভুগতে থাকে দেশটি। তার এ নীতির কারণে দেশটিতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক নিষিদ্ধ করা হয়। এতে দেশটির ২০ লাখ কৃষক মহাবিপদে পড়েন। তাদের অভিযোগ, সরকার প্রয়োজনীয় জৈব সারের উৎপাদন না বাড়িয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে গত মার্চের শেষে কৃষিপণ্যের উৎপাদনে ব্যাপক ধস নেমেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত