বোরোর ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেশি কেন, তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলের বাইরে গিয়ে কোনো কোম্পানি চালের ব্যবসা করছে কিনা বা অবৈধ মজুদ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এমনকি তাদের চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, খাদ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব ও কৃষি সচিবকে দ্রুত বসে বাজার জরিপ করে এই বিষয়গুলো দেখতে বলা হয়েছে।
দেশে এখন ইরি-বোরোর ভরা মৌসুম। হাওরে বাঁধ ভাঙার পরও এ বছর বোরোর ফলন গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। প্রতি বছর এ সময় চালের দাম নিম্নমুখী থাকে। কিন্তু এবার চিত্র উল্টো, ধারাবাহিকভাবে চালের দাম বাড়ছে। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচ্যসূচির বাইরে বাজার কারসাজি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে চাল ও তেল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছুদিন আগে ভোজ্য তেলের বাজার স্বাভাবিক করতে যেভাবে অভিযান চালানো হয়, চালের ব্যাপারেও ওই রকম অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদি কেউ নিয়মনীতি ভেঙে অবৈধভাবে চালের ব্যবসা করে বা মজুদ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চালের বাজারে অস্থিরতার পেছনে কারসাজির সন্দেহের বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভরা মৌসুমে কেন চালের দাম বাড়বে? তিনি জানান, প্রত্যেক কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন আছে। সেখানে বলা আছে, কোম্পানিগুলো কী করতে পারবে। মনে হচ্ছে, কেউ হয়ত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ভেঙে চালের ব্যবসায় নেমে গেছে। এজন্য বাজারকে শক্তভাবে মনিটর ও সুপারভিশন করতে বলা হয়েছে। একটা কোম্পানি, যার হাজার কোটি টাকা আছে, তারা ইচ্ছা করলেই ধান-চাল কিনে মজুদ করতে পারে না। এসব ধান-চাল কতদিন মজুদ করা যাবে তার সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এগুলো সুপারভিশন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। মার্কেট পর্যালোচনা করে দ্রুত একটা ব্যবস্থায় যেতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বেশিরভাগ দেশেই মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন নির্দিষ্ট একটা বিষয়ের ওপর থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে দেখা যাচ্ছে, একটা মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অনেকগুলো বিষয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এটাও শক্তভাবে দেখতে বলা হয়েছে। কার মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে বা আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনে কী আছে, সে কী পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে যাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাকে সতর্ক করা যেতে পারে।’
গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন আইন, ২০২২’র খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সংশোধন আইন, ২০২২’র খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের আওতায় একটি স্থায়ী ট্রাস্ট গঠন করা হবে। যার নাম হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা গবেষণা ট্রাস্ট।
ওমানের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি
মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে কূটনীতিক, অফিশিয়াল, বিশেষ বা সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ চুক্তির আওতায় কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মীদেরও দুই দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসার প্রয়োজন হবে না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ওমানের সঙ্গে একটা চুক্তি সই হয়েছে। এখন থেকে যেন ওমানে আমরা বিনা ভিসায় যেতে পারি সে জন্য এই চুক্তি। ইমার্জেন্সির কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ওনারা জরুরি ভিত্তিতে একটা অ্যাপ্রুভাল নিয়ে চুক্তিটা সই করে ফেলেছিল, কিন্তু যেহেতু আন্তর্জাতিক চুক্তি কেবিনেটে আসতে হয়। সেজন্য কেবিনেট সেটা অনুমোদন দিয়েছে। কূটনীতিক, অফিশিয়াল, স্পেশাল বা সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের... এটা আমাদের যেসব লোক ওখানে কাজ করতে যাবেন তাদের,... ওখানে বেড়ানোর জন্য নয়। যারা ওয়ার্কার তাদের (ভিসা) লাগবে না।’ তিনি আরও জানান, ওমানে এখন কর্মীদের ভিসা কাজের অনুমোদন নেওয়ার সময়ই নেওয়া হয়। পরে শুধু কর্মীদের নাম বসানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কার্গো ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্টের (বিবিআইএন-এমভিএ) মাধ্যমে নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয়ভাবে করা হবে। ৬৪ জেলায়ও একসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হবে।
