বুলবুল আহমেদকে হারানোর এক যুগ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ০৮:১৭ এএম

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেতা বুলবুল আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৬ জুলাই তাকে আজিমপুর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তাকে দেশীয় সিনেমার মহানায়ক বলা হয়।

১৯৬৮ সালে পূর্বাভাস নাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। তার বড় পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৭৩ সালে ইয়ে করে বিয়ে চলচ্চিত্র দিয়ে। সত্তর ও আশির দশকে আলমগীর কবিরের ধীরে বহে মেঘনা, সূর্য কন্যা, সীমানা পেরিয়ে, রূপালী সৈকতে, মোহনা ও মহানায়ক ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সবার মনোযোগ কাড়েন বুলবুল আহমেদ। তবে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত দেবদাস চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

বুলবুল আহমেদের জন্ম ১৯৪১ সালে পুরান ঢাকায়। তার আসল নাম তাবারক আহমেদ। আদর করে তার বাবা-মা বুলবুল বলে ডাকতেন। দাম্পত্য জীবনে বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ। এই দম্পতির তিন সন্তান হলেন- মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভ। দারুণ মেধাবী ছিলেন বুলবুল। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনা শেষ করার পর তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি।

চাকরির পাশাপাশি বুলবুল আহমেদ টিভিতে অভিনয় শুরু করেন। বুলবুল আহমেদ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ছিলো আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘বরফ গলা নদী’। এটি ১৯৬৪ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়। বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলো হচ্ছে- মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড়দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে। ধারাবাহিক ও খন্ড নাটক মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত সর্বশেষ টিভি নাটক ছিল ২০০৯ সালে শুটিং করা ‘বাবার বাড়ি’।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি ছবিও পরিচালনা করেন তিনি। বুলবুল আহমেদ পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে ওয়াদা, মহানায়ক, ভালো মানুষ, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, আকর্ষণ, গরম হাওয়া, কত যে আপন প্রভৃতি। এর মধ্যে শেষের চারটি ছবি প্রযোজনার পাশাপাশি পরিচালনাও করেন বুলবুল আহমেদ। 

সুদর্শন, মার্জিত, রুচিশীল এ অভিনেতা ৪৪ বছরের মিডিয়া জীবনে প্রায় ৩০০ নাটক এবং দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত