সরকারি অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে মিল রেখে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যালয়েও বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা এসেছে। একই সঙ্গে যারা গাড়ি ব্যবহার করেন তাদের জ্বালানির ব্যবহার ২০ শতাংশ কমাতে হবে। গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হয়। গতকাল সোমবার মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে একই নির্দেশনা পাঠিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর।
মাউশি অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমাতে হবে এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধান তা নিশ্চিত করবেন। এ সংক্রান্ত একটি সাশ্রয়ী প্রতিবেদন প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে এ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ে পাঠাতে হবে। গাড়ির জ্বালানির মাসিক প্রাপ্যতা বিদ্যমান সিলিং থেকে ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
অধিদপ্তর আরও বলছে, যেসব সভা অনুষ্ঠান অনলাইনে বা ভার্চুয়ালি করা সম্ভব তা সশরীরে আয়োজন পরিহার করতে হবে। প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শীততাপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার সঠিকভাবে করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য প্রত্যেক কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুটি নির্দেশনা জারি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম নির্দেশনায় বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানো, জ্বালানির ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানো, অনলাইনে সভা করাসহ যুগ্ম সচিবের নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এসি ব্যবহার করতে পারবেন না বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা প্রশাসনের বেশিরভাগ কার্যালয়েই শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা রয়েছেন। যাদের সাধারণত চতুর্থ গ্রেডের ওপরে যাওয়ারই সুযোগ নেই। অথচ যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা তৃতীয় গ্রেডে বেতন পান। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়া শিক্ষার অন্যান্য দপ্তরের চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও এসি ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।
পরে একই দিন মন্ত্রণালয় অপর এক নির্দেশনায় যুগ্ম সচিবের বদলে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এসির তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করতে বলেন। সাধারণত পঞ্চম গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরই প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ধরা হয়। এতে শিক্ষা প্রশাসনে এসি ব্যবহার সংক্রান্ত জটিলতা দূর হয়।
