বিদ্যুৎ খাতে তেল আমদানির ঋণসীমা প্রত্যাহার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ১১:০০ পিএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচও বেড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির পেছনে এখন বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে চলমান লোডশেডিং কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ বাড়িয়েছে সরকার।

এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের একক গ্রাহক ঋণসীমা তুলে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে কোনো একক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ পাবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোনের জন্য আসতে হবে না। এ সুবিধা আগামী ছয় মাস বলবৎ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে এ খাতে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে কোনো ব্যাংক কর্র্তৃক ঋণ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ২৬ খ (১) ধারায় উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা আগামী ছয় মাসের জন্য কার্যকর হবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে একক গ্রাহককে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। এর বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে হলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো ব্যাংক মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারবে। তবে ২৫ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বসীমা কত হবে তা ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ৪০০ কোটি ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৬ কোটি ডলার। ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ১৪১ শতাংশ।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগদানের পরপরই এক সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রউফ তালুকদার জানান, জ্বালানিসহ কয়েকটি খাতে আমদানি বাড়ার কারণে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়েছে। আর এ ব্যয় বৃদ্ধিটা এসেছে মূলত পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে। এমন নয় যে বেশি পণ্য আমদানি হচ্ছে সেই কারণে আমদানি ব্যয় বেশি।

গত ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকের একক গ্রাহকের ঋণসীমা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে একটি ব্যাংক ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে একক গ্রাহককে মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ঋণ দিতে পারত। এ সীমা পরিবর্তন করে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো সময়ে একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রুপকে দেওয়া ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ সুবিধার আসল অঙ্কের মোট পরিমাণ কোনোভাবেই সেই ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না।

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায়, নিজস্ব জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এ কারণে সরকারের ভর্তুকি কমাতে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে লোডশেডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোন এলাকায় কখন, কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকবে না তার একটি সূচি তৈরি করে প্রতিদিন এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কোনো এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদক অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এখন আর তারা জ্বালানি তেল ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করতে পারছে না। এ কারণে তাদের ঋণসীমা বাড়িয়ে দিয়ে দেশে জ¦ালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ঋণসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত