আমদানি ব্যয় বেড়ে লেনদেন ভারসাম্যে চাপ পড়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দাতা সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আইএমএফের এক মুখপাত্রের বরাতে গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের ঋণের অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করবে। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পর দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির শরণাপন্ন হলো বলেও উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় এ দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং তাতে লেনদেন ভারসাম্যে চাপ পড়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, তাদের নতুন চালু করা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ঋণ নিতে আগ্রহী। এছাড়া আইএমএফের আরেকটি কর্মসূচির আওতায় ঋণের বিষয়ে আলোচনার জন্যও অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
আইএমএফের মুখপাত্র গতকাল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তহবিলের বিদ্যমান নীতি ও প্রক্রিয়ার আলোকে কর্মসূচি প্রণয়নে কর্মকর্তারা (আইএমএফের) কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। আলোচনায় যে কর্মসূচি ঠিক হবে, সে অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। এমন পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। খরচ কমাতে বিদেশি ফল, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রী আমদানি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের খরচ কমাতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই মধ্যে ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানিয়ে গত রবিবার আইএমএফকে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। যাতে বলা হয়, ‘সময় একটু খারাপ (ক্রিটিক্যাল টাইম) বলে জরুরি ভিত্তিতে লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা ও বাজেট সহায়তাবাবদ বাংলাদেশের অর্থের দরকার।’
