চলন্ত লঞ্চে সন্তান প্রসব

নবজাতকসহ মা বাবার আজীবন যাতায়াত ফ্রি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ০২:১২ এএম

ঢাকা থেকে লঞ্চে বরিশালে যাওয়ার পথে মাঝনদীতে সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ নামে লঞ্চের ডেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নবজাতকটি ভূমিষ্ঠ হয়। ঝুমুর আক্তার (২৫) নামে ওই নারীর প্রসববেদনা ওঠার পর লঞ্চের যাত্রী এক ধাত্রীর সহায়তায় জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ইব্রাহিম।

এদিকে লঞ্চমালিকের পক্ষ থেকে নবজাতককে ১০ হাজার টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবজাতক ও তার মা-বাবার প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চে আজীবন বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে লঞ্চ কর্র্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, লঞ্চে সন্তান প্রসব করা ঝুমুর আক্তার বরিশাল সদরের রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শোলনা গ্রামে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাতে ঢাকা থেকে প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চে ওঠার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রসববেদনা শুরু হয়। এর পরপরই তার স্বজনরা ব্যাকুল হয়ে লঞ্চে কোনো চিকিৎসক বা নার্স আছে কি না, খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কাউকে না পেয়ে হতাশ হন। তবে খোঁজ মেলে এক পল্লী ধাত্রী যাত্রীর। তিনি এগিয়ে এসে ঝুমুরের সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন।

লঞ্চে নিরাপদে সন্তান প্রসবের ঘটনায় খুশি ঝুমুরের সঙ্গে থাকা মা ও অন্য স্বজনরা। তবে বড় লঞ্চগুলোতে ন্যূনতম চিকৎসার ব্যবস্থা রাখার জন্য কর্র্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা।

ঝুমুরের স্বামী মো. হারিস নারায়ণগঞ্জে পোলট্রি ব্যবসা করেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ঝুমুরের সন্তান প্রসবের নির্ধারিত তারিখ ছিল। এ উপলক্ষে তিনি বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন।

মা মিরু বেগম জানান, ঝুমুর জামালপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। আর মেয়ে জামাই হারিস নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ‘সন্তান প্রসবের জন্য আগেভাগে ঝুমুরকে নিয়ে শোলনায় আমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। সঙ্গে ঝুমুরের আট বছরের ছেলে সাইমুন, আমার ছেলে বেল্লাল ও তার স্ত্রী রুমকি, আমার আরেক মেয়ে লিপি ও নাতি রিফাত ছিল।’

প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের যাত্রী রাকিব বলেন, ‘প্রসববেদনা ওঠার পরে টানা দুই ঘণ্টা চেষ্টার পরে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। লঞ্চে কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। প্রথম অবস্থায় তো যাত্রী নার্স বা ডাক্তার কাউকেই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে একজনকে পাওয়া যায়। এক নারী ধাত্রী যাত্রী দায়িত্ব নিয়ে প্রসব করিয়েছেন। লঞ্চে সন্তান প্রসবের ঘটনা এটিই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটেছে অন্যান্য লঞ্চে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ের লঞ্চ যাত্রায় অনেকের সঙ্গে অনেক ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তখন প্রাথমিক চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এ জন্য লঞ্চে একজন চিকিৎসক রাখা উচিত। যাতে অসুস্থ রোগীকে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারে।’

লঞ্চটির আরেক যাত্রী সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় প্রসূতি মায়ের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হচ্ছিল। তবে সবাই এগিয়ে আসায় কাজটি সহজ হয়েছে। আমরা সবাই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। যদি কোনো অসুবিধা হয়ে যায়, তাহলে বিনা চিকিৎসায় মারা যেত ওই নারী। এ জন্য লঞ্চে অন্তত একজন চিকিৎসক রাখা উচিত।’

এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লুর রহমান জানান, লঞ্চ কর্র্তৃপক্ষ খুশি হয়ে তাৎক্ষণিক নবজাতককে ১০ হাজার টাকা উপহার দিয়েছে। পাশাপাশি নবজাতক ও তার মা-বাবার প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের ডেকে আজীবন বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত