ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর নতুন রেল লাইন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন প্রকল্পটির অ্যাডমিন কর্মকর্তা নাদিম মাহমুদ মোসলেম।
তিনি আভিযোগ করে বলেছেন, ‘এ প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আর্থিক দুর্নীতিও।’
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
তবে প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া তার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দেশ রূপান্তররের কাছে দাবি করে বলেন, ‘এই অ্যাডমিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও আছে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়ে নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘এপকন্স ও ক্যাপিটাল জেবি নামে দুটি ভারতীয় কোম্পানি এই প্রকল্পের কাজ করছে। পাঁচ বছরে প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশও হয়নি। টঙ্গী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যে বেডের কাজ হয়েছে, তা সঠিকভাবে হয়নি। যেভাবে বেড খনন করা, মাটি ও বালি দেওয়া, সাবব্লাশ ও ব্লাশ দেওয়ার কথা, সেভাবে কাজ পরিচালনা করা হয়নি। প্রকল্পের কাজে তেমন কোনো সেফটি নেই। রেলওয়ে থেকে বহুবার নোটিশ দেওয়ার পরও কোম্পানি দুটি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ আমার কাছে আছে। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের ১৩৪ জন কাজ করেন। কিন্তু চাকরির ভয়ে কেউ কথা বলছেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এর প্রতিবাদ করা দরকার। তাই আমি রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। যাতে করে দুর্নীতি-অনিয়ম আর না হয়। তা ছাড়া, এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী ও দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেব। প্রশাসনের কাছে আমি প্রমাণপত্রগুলো দাখিল করব’।
অ্যাডমিন কর্মকর্তা নাদিমের অভিযোগের বিষয় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই লোক তিন থেকে চার মাস আগে ঠিকাদার কোম্পানির অ্যাডমিন অফিসার হিসেবে কাজে জয়েন করেন। কিছু স্ক্রেপ মেটেরিয়াল চুরির সময় তাকে ঠিকাদার কোম্পানি হাতেনাতে ধরে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুই থেকে তিন দিন আগে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে তিনি এমন সব কাণ্ড করছেন এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি। তা ছাড়া, নাদিম মাহমুদ মোসলেম হচ্ছেন অ্যাডমিন কর্মকর্তা। তার কাজ হচ্ছে অফিসের মধ্যে কোন মেটেরিয়াল কী হয়েছে এগুলো দেখা। বাহিরের বিষয় গুলো তো তার বুঝারও কথা না এবং দেখার ও কথা না। তবে এ প্রকল্পের কাজের খবর নিয়মিত তদারকি করছি। প্রাথমিকভাবে বলতে পারি কোন দুর্নীতি হয়নি এই প্রকল্পে’।
তিনি বলেন, যে লোক এ অভিযোগ করছেন, তিনি চাইলে আমাকে প্রমাণসহ অভিযোগ দেখাতে পারে। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে প্রকল্পের কাজ ভালোভাবেই চলছে। সব মিলিয়ে প্রকল্প প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
