যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক স্বচ্ছতার তালিকায় নেই বাংলাদেশ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ এএম

আর্থিক স্বচ্ছতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ন্যূনতম শর্ত পূরণকারী দেশগুলোর তালিকায় স্থান পায়নি বাংলাদেশ। গত শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে (এফটিআর) এ কথা বলা হয়েছে। তবে তালিকায় স্থান পেতে ন্যূনতম যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন তা অর্জনের চেষ্টায় বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নতির জন্য চারটি সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ১৪১ দেশের সরকারের মধ্যে ৭২টি আর্থিক স্বচ্ছতার ন্যূনতম শর্ত পূরণ করেছে। বাংলাদেশসহ বাকি ৬৯টি দেশ ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে এসব শর্ত পূরণে ২৭টি দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক স্বচ্ছতার মানদণ্ডে উন্নীত হয়েছে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাতারে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। একই পরিস্থিতি সামরিক জান্তা পরিচালিত মিয়ানমার সরকারেরও।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর আয়-ব্যয়সহ বাজেটের তথ্যের পর্যাপ্ততা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য সরকারের বিভিন্ন চুক্তি ও নিবন্ধন (লাইসেন্স) দেওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা মূল্যায়ন করে এফটিআর তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে সরকারি আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষায় বাস্তব চিত্র উঠে না আসাকে বাংলাদেশের আর্থিক অস্বচ্ছতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে থাকে নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠে না। এছাড়া সময়মতো এ প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।

বাংলাদেশে নিরীক্ষার এ ধরনের সংস্থা হচ্ছে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিএজি)। কিন্তু এই সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে সম্পাদিত চুক্তির মৌলিক তথ্যগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।

তবে শর্ত পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার একটি যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব এবং পাস হওয়া বাজেটের তথ্যও সরকার অনলাইনসহ অন্যান্যভাবে সহজ উপায়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ঋণের দায় সংক্রান্ত তথ্যও পর্যাপ্ত পাওয়া যায়। অবশ্য এতে বলা হয়েছে, বাজেটের দেওয়া তথ্য সাধারণত নির্ভরযোগ্য বিবেচনা করা হয়, যদিও বাজেটের কাগজপত্র আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নীতি মেনে তৈরি করা হয়নি।

উন্নতিতে বাংলাদেশের জন্য চার সুপারিশ : প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলোÑ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নীতি মেনে বাজেটের কাগজপত্র প্রস্তুত করা, সিএজি’র স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত জনবলের ব্যবস্থা করা, বাস্তব চিত্র, সুপারিশসহ বিস্তারিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে সম্পাদিত চুক্তির মৌলিক তথ্যগুলো জনসমক্ষে ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত