তিন খাতে সহায়তা

বাংলাদেশকে ৩০০ কোটি ডলার দেবে দ. কোরিয়া

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৬ এএম

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটি অবকাঠামো নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তার জন্য আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশকে ৩ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩০০ কোটি ডলার দেবে; যা প্রাথমিকভাবে সম্মত হওয়া ৭০০ মিলিয়ন বা ৭০ কোটি ডলারের তিনগুণের বেশি। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন অংশীদার হিসেবেও নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটি।

ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ২০২২ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ১৯৭৩ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে কোরিয়া ও বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে চমৎকার সম্পর্ক উপভোগ করেছে। আমরা চমৎকার সম্পর্ক গড়ে তুলেছি এবং এখনো প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কোরিয়া বর্তমানে বাংলাদেশে পঞ্চম বৃহত্তম এফডিআই বিনিয়োগকারী হলেও বিনিয়োগের ৭০ শতাংশের বেশি রয়েছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প খাতে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে টেলিভিশন এবং মোবাইল ফোনের বেশিরভাগ গ্যাজেট স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে হুন্দাই গাড়ির অ্যাসেম্বল করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করছে স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শ ও পরিচালনার দায়িত্বে পালন করছে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (কেইসি)। কোরিয়ান সরকারের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। প্রতি বছর কোরিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা দুই থেকে চার হাজারে উন্নীত হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স ২০৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এ বছর ইন্ডিপেন্ডেনস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) ভাষা প্রোগ্রাম চালু করেছে। ঢাকায় কোরিয়ান দূতাবাস তরুণদের জন্য স্টার্ট-আপ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করছে।

লি ক্যাং কিউন বলেন, ২০২৩ সালে আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী হবে কোরিয়া-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের মাইলফলকের বছর। গত পাঁচ দশক ধরে আমরা আন্তরিকভাবে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি, আগামীতে সেটি আরও শক্তিশালী এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে সাহসী পদক্ষেপ নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত