ছাত্রলীগের বাধায় পণ্ড আবরারের স্মরণসভা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৪:০৫ এএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিবিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভা করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে সংগঠনটির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিবিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আবরার ফাহাদ হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বেলা ৩টায় রাজু ভাস্কর্যে স্মরণসভার আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদের (কিবরিয়া-নুর) ছাত্রসংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে রাজু ভাস্কর্যে সমবেত হন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ৩টা ২০ মিনিটে ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্মরণসভা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতারা সেখান থেকে চলে যান। এরপর বক্তব্য শুরু করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। একপর্যায়ে বিন ইয়ামিন মোল্লা ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’  স্লোগান দিতে থাকেন। তখন রাজু ভাস্কর্যের আশপাশে থাকা ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও রড নিয়ে সভাস্থলে হামলা করে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের ধাওয়া দিয়ে শাহবাগের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ধাওয়া খেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ঢাবির সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনকে হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়।

হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (স্মরণসভায় অংশ নেওয়ারা) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তারা উসকানিমূলক স্লোগান দেয় ও বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি করার প্রতিবাদ জানাতে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। ছাত্রলীগ কারও ওপর হামলা করেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মৌলবাদীদের প্রতিহত করেছে।’

অন্যদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ একজন শিক্ষার্থীকে খুন করেছে, আমরা তার স্মরণসভা করতে গিয়ে হামলার শিকার হলাম। একটা গণতান্ত্রিক দেশে কেউ এমন আচরণ করতে পারে না।’

হামলায় পরিষদের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরে নিহত হন ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিচার শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত