প্রথমবারের মতো জেতা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিটা এক বছরও নিজেদের কাছে রাখতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া! ১১ মাসের মাথাতেই সেই ট্রফি জয়ের জন্য শুরু হয়ে যাচ্ছে ফের লড়াই। এবার অস্ট্রেলিয়া স্বাগতিক, বাকি ১৫ দলের লড়াই তাদের কাছ থেকেই টি-টোয়েন্টির রাজমুকুট ছিনিয়ে নেওয়ার। শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই আয়োজনের মধ্যে কোনো বাঁধাধরা ব্যবধান নেই। ২০০৭ সালে শুরু, পরের আসর ২০০৯ সালে। তার পরেরটা আবার ২০১০ সালে! এরপর দুই বছর অন্তর অন্তর হয়েছে তিনটা আসর, ২০১৬’র পর আবার হলো ২০২১ সালে। সেদিক থেকে বলা যায় উইন্ডিজ অনেক ভাগ্যবান, প্রায় পাঁচ বছর টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেতাবটা গায়ে লাগিয়ে চলতে পেরেছেন সামি, গেইল, ব্রাভো, ব্র্যাথওয়েটরা।
গতকাল অংশগ্রহণকারী ১৬ দলের অধিনায়কের প্রাঞ্জল সংবাদ সম্মেলনের পর বাবর আজমের জন্মদিন পালন করা হলেও পাকিস্তানের মাঠে নামতে এখনো দিন ছয়েকের দেরি। ওদিকে আজই মাঠে নেমে পড়তে হচ্ছে দাসুন শানাকা, গেরহার্ড এরাসমাস, স্কট এডওয়ার্ড ও সিপি রিজওয়ানকে। শুরুতেই প্রথম পর্বের ম্যাচ, মেলবোর্নের পাশে গিলং এর কার্ডিনিয়া পার্কে শুরুতেই মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা ও নামিবিয়া। পরের ম্যাচে আরব আমিরাতের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।
অদ্ভুত নিয়মের বেড়াজালেই শ্রীলঙ্কা ও উইন্ডিজকে খেলতে হচ্ছে প্রথম পর্বে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর ২০২১ তারিখে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয় কোন দলগুলো খেলবে ১২ মাস পরে অনুষ্ঠেয় সুপার ১২ পর্বে। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ জয়ে ভর করে র্যাংকিং টেবিলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ পেয়ে যায় সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলার সুযোগ, যদিও গত আসরে এই পর্বে একটা ম্যাচও জেতেনি মাহমুদউল্লাহ’র দল। অন্যদিকে দুই ম্যাচ জেতা শ্রীলঙ্কা আর এক ম্যাচ জেতা উইন্ডিজ পিছিয়ে পড়ে। অথচ বর্তমানে দুই দলেরই অবস্থান বাংলাদেশের ওপরে।
এশিয়া কাপ জিতে আসা শ্রীলঙ্কাকে তাই খেলতে হচ্ছে প্রথম পর্বে, গিলংয়ের এই মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ২ উইকেটে হারানোর সুখস্মৃতি আছে লঙ্কানদের। সেই সঙ্গে ভিক্টোরিয়া প্রদেশে বসবাসরত বড় অঙ্কের অভিবাসী শ্রীলঙ্কানদের সমর্থনও মাঠে পাবেন বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা।
এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে হারের পর দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো শ্রীলঙ্কার সামনে নামিবিয়ার খুব একটা পাত্তা পাওয়ার কথা নয়। বরং পরের ম্যাচটা হতে পারে বেশ জমজমাট। আমিরাতের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, যে দলে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা সেসব দেশে ঘরোয়া লিগে খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাচদের প্রতিনিধিত্ব করেন।
প্রথম সপ্তাহটা একটু ঢিমেতালেই কাটবে, যেহেতু শ্রীলঙ্কা এবং উইন্ডিজের তুলনায় বাকি দলগুলো শক্তিমত্তায় বেশ পিছিয়ে তাই নাটকীয় কিছু না ঘটলে এই দুই দলের ম্যাচগুলো বাদে অন্য ম্যাচগুলোর খুব একটা দর্শক চাহিদা নেই এই অঞ্চলে।
তবে লড়াইয়ের আগুন চড়তে শুরু করবে ২২ অক্টোবর থেকে, গতবারের দুই ফাইনালিস্ট এবং তাসমান পাড়ের দুই প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। আর আঁচটা মধ্যগগনে উঠবে ঠিক পরদিন, রবিবার ২৩ অক্টোবর মেলবোর্নে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ তার পরদিন অর্থাৎ সোমবার হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে। প্রতিপক্ষ ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ, আপাতদৃষ্টিতে যে সম্ভাবনাটা নেদারল্যান্ডস অথবা নামিবিয়ার বেশি।
১৩ নভেম্বর এমসিজিতে ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এখন পর্যন্ত যে দেশগুলো ওয়ানডের বিশ্বকাপ জিতেছে, তারাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। বাকি ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়া, তারাও জিতেছে সবশেষ আসরে। এবার কি সেই বৃত্তের বাইরের কেউ জিতবে, নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো কোনো দলকে দেখা যাবে শিরোপা জিততে? সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পর্বটাই আজ থেকে শুরু হয়ে গেল।
