আ.লীগের সম্মেলন ২৪ ডিসেম্বর

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৯ এএম

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর। গতকাল শুক্রবার দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটাই হবে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ঘটনা। এ বিবেচনায় আসন্ন সম্মেলনের গুরুত্ব অনেক এবং বহুবিধ। জাতীয় রাজনীতির বিবর্তমান পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় এ সম্মেলন রাজনীতিক, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের নোটবুকে থাকবে স্পেশাল ইভেন্ট হিসেবে। দলের নেতাকর্মীরাও সেই বিবেচনাতেই কর্মকা- চালাচ্ছেন। ২২তম জাতীয় সম্মেলনে নির্বাচিত নেতৃত্বই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবে।

বৈঠকের একপর্যায়ে বিরতি নিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনের গেটে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রীতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ দুই দিনব্যাপী সম্মেলন করলেও এবার এক দিনেই তা শেষ করা হবে।’

তিনি জানান, আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় জননেত্রী যোগ দেবেন; সশরীরে যোগ দেবেন।

সেতুমন্ত্রী জানান, সম্মেলন তেমন জাঁকজমকপূর্ণ হবে না। সম্মেলনের দিন সকালে উদ্বোধনী অধিবেশন। বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশন ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় বেশ ঘটা করেই সম্মেলন করেছিল আওয়ামী লীগ। এবার যেহেতু সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক সংকট চলছে এবং তার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও, তাই দলটি এবার সাদামাটাভাবে সম্মেলন করতে যাচ্ছে।

বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে ব্যয় কমাতে ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত থাকবে বলে জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কার্যনির্বাহী বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘খরচ কমানোর জন্য আয়োজন হবে সাদামাটা।’ সে লক্ষ্যেই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।

২১তম সম্মেলনে টানা নয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। আর দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন ওবায়দুল কাদের। ২২তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দশমবার সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে মনে করেন দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এ পদের আগ্রহীরা ইতিমধ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন। তবে, দলে শেখ হাসিনার রানিংমেট হিসেবে ওবায়দুল কাদের থাকছেন নাকি নতুন কেউ আসছেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বেশ কয়েক মাস ধরেই সভা-সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বিরোধী দল বিএনপি। ব্যাপক মহড়ার মাধ্যমে সরকার পতনের হুমকিও দিচ্ছে তারা। আওয়ামী লীগও রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই দলটি বিভাগীয় পর্যায়ে জনসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম সমাবেশ করবে তারা। এ মাঠে গত ১৫ অক্টোবর প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি।

গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনের গেটে সংবাদ সম্মেলন শেষে ওবায়দুল কাদের ফের বৈঠকে যোগ দেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক চলছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত