নতুন করে কোনো বড় প্রকল্প না নেওয়ার অনুশাসন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উন্নয়নমুখী ছোট প্রকল্প চলবে। বিলাসপণ্য ব্যবহার না করে, কৃষিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ অনুশাসন দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
সকালে শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নিয়মিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন একনেক সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘পণ্য ও সেবার দাম কিছুটা কমেছে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশে। অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এতে আমরা খুশি, আমাদের কথা ফলে গেছে। আমরা আশা করি, এ সংকটের সময়ে আমাদের ভোক্তারা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ভোক্তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এটি আগেও বলেছেন। আবার আজকেও (গতকাল) তিনি বলেছেন, কে কী চাষ করবেন তা আমাদের বলে দেওয়ার দরকার নেই। যার যা ভালো লাগে চাষ করেন।’
ছোট ও উন্নয়নমুখী প্রকল্প চলবে, নতুন বড় প্রকল্প নেওয়া হবে না বলে বৈঠকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্প যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও সাবধানী হতে হবে। ছোট, উন্নয়নমূলক ও গ্রামীণ প্রকল্পে আমরা কোনো আপস করব না, এগুলোকে আগের মতোই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংকটের এ সময়ে বিলাসবহুল পণ্য ব্যবহার কমিয়ে, কৃষি উৎপাদনকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
অপচয় বন্ধ ও বিলাসী পণ্য এড়িয়ে চলুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বৈশি^ক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি অপচয় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিলাসী পণ্যসামগ্রী এড়িয়ে চলা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও তহবিলের অপব্যবহার রোধ করার আহ্বান জানান। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের গ্রামীণ ছোট প্রকল্প বা কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আয়েশি বা বিলাসী প্রকল্প নেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা গ্রামীণ ছোট প্রকল্প বা কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে আপস করতে পারি না। এখন মেগা প্রকল্প নেওয়া যাবে না।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনাবাদি জমি খুঁজে বের করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমিষ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মুরগি, গবাদিপশু ও শাকসবজির উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেছেন। বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে, যাতে আমরা স্বনির্ভর হতে পারি। এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না।’
এমএ মান্নান বলেন, ‘আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশ কভিড-১৯ থেকে বেরিয়ে এসেছে, কিন্তু আমরা এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী তাই ডেঙ্গুজ¦রের প্রাদুর্ভাব কমাতে বাসাবাড়ি ও অফিস-আঙিনা পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ ও দেশবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’
বাংলাদেশ বর্তমান বৈশি^ক অবস্থার শিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিমুহূর্তে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এখনো আমরা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য সংস্থা আমাদের ভালো অবস্থার পূর্বাভাস দিচ্ছে। দেশে মূল্যস্ফীতি এখন নিম্নমুখী রয়েছে, আমাদের এ অবস্থা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে এবং সামনের দিকে এগোতে হবে।’
