বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দযজ্ঞে এসে পড়েছেন লিওনেল মেসি। আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫-০ গোলের জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে কাতারে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা দল। ঢাকের বাদ্যে, উল্লাসে আর জয়ধ্বনিতে আকাশি-নীলদের কাতার আগমনকে স্মরণীয় করে রেখেছেন সমর্থকরা। ১৮ ডিসেম্বর কি এমন আনন্দ-উল্লাস আর হর্ষধ্বনিতে মেসিদের বিদায় জানাতে আসার স্বপ্ন নিয়েই আগমনীক্ষণের এই উদযাপন।
ফ্লাইট নামার অনেক আগে থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে ভক্তদের অপেক্ষা। কাতারে অবস্থানরত একদল ভারতীয় এসেছিলেন ঢাকঢোল নিয়ে, সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় রীতির নৃত্যশিল্পীরাও। অন্যদিকে ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ছুটে যাওয়া ফুটবলভক্তরা, যারা হাজার ডলারের বেশি খরচ করে এসেছেন মরুর বুকে বিশ্বকাপ দেখতে।
বৃহস্পতিবার ভোরবেলাতেই আবুধাবি থেকে মেসিদের নিয়ে বিমানটি উড়াল দেয় দোহার পথে। তাদের নিয়ে বিমানবন্দরে বিমানটি যখন নামে তখনো ভোরের আলো ভালো মতো ফোটেনি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লোগো ও মেসি-ডি মারিয়াদের ছবিখচিত দুবাইয়ের বিশেষ একটি বিমানে দোহায় আসে আলবিসেলেস্তেরা। নীল ফুলহাতা টি-শার্ট গায়ে শর্টস পরে ট্রলিব্যাগ হাতে বিমান থেকে নেমে টারমাকে দাঁড়ানো বাসে উঠে পড়েন মেসি, সঙ্গে ছিলেন ডি মারিয়া ও জনাদুয়েক আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
মেসিদের দেখতে অপেক্ষায় থাকা ভক্তরা প্রিয় ফুটবলারকে দেখতে পারেননি একঝলকও, তাদের ১০০ মিটার সামনে দিয়ে দ্রুত বেগে বেরিয়ে যায় খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসগুলো।
লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করতে করতে ভারতীয় আর দক্ষিণ আমেরিকান ফ্যানদের মধ্যে যেমন সখ্য হয়েছে, তেমনি বেশ কিছু ব্যপারে মতানৈক্যও হয়েছে। ভারতীয়দের ঢাকঢোল পেটানো নিয়ে লাতিনরা বেশ বিরক্ত, ‘ওরা প্রচুর শব্দ করে। এভাবে যদি রোজ রাতে এই ঢাকের বাদ্য বাজতে থাকে, তাহলে খেলোয়াড়রা তো ঘুমাতে পারবে না’ বলছিলেন বুয়েনস আয়ার্স থেকে আসা লরা।
ভারতীয় আর্জেন্টাইন সমর্থক মুনীশ শর্মা দেখতে চান বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির গোল, ‘এটা যদি লিওর (লিওনেল মেসি) শেষ বিশ্বকাপ হয় তাহলে কাতারই সবচেয়ে ভালো জায়গা’ জানালেন ২০১০ সালে দোহায় ব্রাজিলের বিপক্ষে মেসিকে গোল করতে দেখা এই ভক্ত।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে, চোট কেড়ে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সবচেয়ে বেশি গোলের জোগানদার জিওভান্নি লো সেলসোকে। আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে ছয়জন খেলোয়াড় বদল করেছে আর্জেন্টিনা কোচ। ২৩ নভেম্বর সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কি প্রথম একাদশ নিয়ে এখনো সন্দিহান স্কালোনি? আর্জেন্টাইন কোচ জিইয়ে রাখলেন আশঙ্কাটা, ‘আমরা ছোট ছোট বেশ কিছু সমস্যা দেখতে পেয়েছি এবং আমাদের হাতে খানিকটা সময় এখনো আছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে। আমরা পরিবর্তন আনতে পারি, যদিও আশা করছি করতে হবে না; তবে একটা সম্ভাবনা তো আছেই। অনেক খেলোয়াড়কেই মাঠে নামানো হয়নি। হয় তার কোনো চোট আছে অথবা তার চোট পাওয়ার আশঙ্কায় আছি আমরা। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না যে সবাই ভালো আছে কিনা। নীতিগতভাবে আমি বলতে পারি যে সবাই ঠিক আছে, তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্যই আমরা অনেককে খেলানোর ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম।
মাঝমাঠের খেলোয়াড় রদ্রিগো ডি পল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন তারা ‘আমরা বিশ্বকাপের ম্যাচ মনে করেই খেলেছি। আমার মনে হয় আমাদের বেশ ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে ওরা (আরব আমিরাত)। আমরা ভালো করেছি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটায় ভালো খেলতে চাইলে আমাদের একই মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।’
