কলমানিতে এক বছরে দ্বিগুণ সুদহার

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২০ এএম

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সঞ্চয় ভেঙে চলছেন অনেক আমানতকারী। বিপরীতে ব্যাংকঋণে সরকারের নির্ভরতা এবং বেসরকারি ঋণে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নগদ অর্থের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে। এতে করে অনেক ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ধার নিচ্ছে। এর প্রভাবে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে স্বল্প সময়ের জন্য ধার করা টাকার সুদের হারও (কলমানি রেট) বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে কলমানিতে সুদের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২১ ডিসেম্বর স্বল্প সময়ের জন্য অন্য ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে তার বিপরীতে সুদ গুনতে হয়েছে গড়ে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ফলে এক বছরে কলমানিতে সুদের হার বেড়েছে প্রায় ১১৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক আমানতে সর্বনিম্ন সুদ হার বেঁধে দেওয়ার পর অনেক ব্যাংক আমানতের বিপরীতে নামমাত্র সুদ দিচ্ছে। একইসঙ্গে অনেক ব্যাংকের আমানত কমে এলেও ঋণের পরিমাণ কমছে না। অথচ ব্যাংকগুলোকে আমানত ও ঋণের বিপরীতে এডিআর ও এসএলআর সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। সে কারণে ব্যাংকগুলো মানি মার্কেটের ওপর নির্ভর করায় এর রেট হঠাৎ করে বেড়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলোকে কলমানির বিপরীতে সুদ গুনতে হয়েছিল ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ছয় মাসের মাথায় ২০২২ সালের জুন শেষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৪২ শতাংশে। আর চলতি ডিসেম্বরে এ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত অনেকটা শক্তিশালী হওয়ায় সাধারণত বৈশ্বিক দুর্যোগের প্রভাব কম পড়ে। তবে করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম অনেকাংশে বেড়ে যায়। এতে দেশের বাজারেও পড়েছে বড় ধরনের প্রভাব। উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে মানুষ আমানত ভেঙে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোতে দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট। যার কারণে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে কলমানি রেট বেড়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কলমানি মার্কেটে সুদহার দৈনিক ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ছিল। আলোচিত সময়ে কলমানি মার্কেটে মোট ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এটি আগের প্রান্তিকের চেয়ে ২১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কম। আগের প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কলমানি মার্কেটে লেনদেন হয়েছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা।

এদিকে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দৈনিক ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর জন্য ৫৮টি রেপো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১-৫ দিন মেয়াদি ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ৩১৭৩টি দরপত্র এবং ৭ দিন মেয়াদি ৬৫ হাজার ৯ কোটি টাকার ৭৯৩টি দরপত্র গৃহীত হয়। চলতি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৫৩টি রেপো নিলামের মাধ্যমে ১-৪ দিন মেয়াদি ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার ১৭০৬টি দরপত্র এবং ৭ দিন মেয়াদি ১১ হাজার ১০৯ কোটি টাকার ১৮৫টি দরপত্র গৃহীত হয়েছিল।

এছাড়া মুদ্রাবাজারে তারল্য চাপ থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ও আগের অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রিভার্স রেপোর কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত