ভেস্তে গেছে এসইসির বিশেষ নিরীক্ষা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৩ পিএম

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১০৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে আলিফ গ্রুপের মালিকানাধীন তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু অর্থ উত্তোলনের প্রায় চার বছরেও কোম্পানিটির আর্থিক স্বাস্থ্যে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। রাইট শেয়ারের অর্থ ব্যবহারে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাইট শেয়ারের অর্থ ব্যবহার খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হলেও কোম্পানিটি কোনো তথ্য না দেওয়ায় তা ভেস্তে গেছে। এক্ষেত্রে এসইসি একাধিকবার নিরীক্ষককে সহায়তার নির্দেশনা দিলেও তা আমলে নেয়নি আলিফ গ্রুপ। বিশেষ নিরীক্ষায় অসহযোগিতা করলেও কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এসইসি।

২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডকে রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয় এসইসি। এ অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি কারখানা আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানায়। ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাইট শেয়ারের অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি। রাইটের অর্থ পাওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ মাসের মধ্যে ওয়াশিং ও ইয়ার্ন ডায়িং সুবিধার জন্য ৫০ হাজার বর্গফুটের কারখানা ভবন, ৪৪ কোটি টাকায় স্পিনিং মেশিনারি, প্রায় ৩০ কোটি টাকায় ইয়ার্ন ডায়িংসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করবে বলে রাইট ইস্যুর প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু রাইট শেয়ার ইস্যু করে টাকা উত্তোলনের পর থেকে কোম্পানির নিট মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমছে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ২৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা পরের হিসাব বছরে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় নামে। আর ২০২০-২১ হিসাব বছরে তা আরও কমে ১১ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় নেমে আসে। অবশ্য ২০২১-২২ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা কিছুটা বেড়ে ১৫ কোটি ২০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। 

আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির রাইট শেয়ারের অর্থ ব্যবহার এবং ২০১৯ ও ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রপার্টি প্ল্যান্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট, কাঁচামাল, লেনদেন বকেয়া, টার্নওভার ও নগদ প্রবাহ বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি। আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা

কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদ ও অডিট কমিটির ভূমিকাও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোম্পানিকে নিয়োগ দেয় এসইসি।

কিন্তু কোম্পানিতে এ-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে দফায় দফায় যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পায়নি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ২০২১ সালের ১১ মে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে এসইসির শরণাপন্ন হয়। ২৩ মে এসইসি আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার নির্দেশনা দেয়। ২৪ মে কোম্পানি এসইসিতে চিঠি দিয়ে জানায়, ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়নি। রাইট শেয়ারের অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধতা বিচেনায় নেওয়ার অনুরোধ জানায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কোম্পানিটি উচ্চ আদালতে এজিএমের জন্য অনুমতি চেয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রিট পিটিশনে আদালতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশনাও চেয়েছে কোম্পানিটি।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৮ জুন এক চিঠিতে আবারও নিরীক্ষককে সহযোগিতায় কমিশনের নির্দেশনা পরিপালন করতে বলা হয় এসইসি থেকে। কিন্তু এর পরিবর্তে এসইসির কাছে বিশেষ নিরীক্ষা তিন মাসের জন্য স্থগিতের অনুরোধ জানায় কোম্পানি। এরপর কোম্পানির কাছে তথ্য চেয়ে আবারও চিঠি পাঠালেও তা পায়নি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের ব্যাংক হিসাব, রাইট শেয়ার ব্যবহারের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রপ্তানি রসিদ সনদ ও অন্যান্য বিক্রির তথ্য, ভ্যাট রিটার্ন এবং রাইটের অর্থ ব্যয়ের  বৈধ দলিলাদি চেয়ে পাঠায় এসইসি। 

কিন্তু বারবার যোগাযোগের পরও আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় বিশেষ নিরীক্ষার সময় বাড়ায় এসইসি। কিন্তু পরবর্তীতে কোম্পানিটি কোনো তথ্য না দেওয়ায় নিরীক্ষাকার্য সেখানেই স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ নিরীক্ষায় অসহযোগিতা করলেও কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়নি এসইসি।

সিএমসি কামাল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, যা ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে হয় আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। এর আগে ২০১১ সালে রাইট শেয়ার ইস্যু করে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত