দুর্ধর্ষ পাঁচ ব্যাংক ডাকাতি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১৮ পিএম

ব্যাংক ডাকাতির সময় নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেন ডাকাতরা। কেউ ডিনামাইট দিয়ে ব্যাংকের দেয়াল ভাঙেন, কেউ বা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে লুটপাট চালান। গোয়েন্দা গল্পও কখনো কখনো ডাকাতিতে সহায়তা করে। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

ঊনবিংশ শতাব্দীর যুক্তরাষ্ট্রের দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাত উইলিয়াম ফ্রান্সিস সাটনকে একবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি বারবার ব্যাংক ডাকাতি করেন কেন?’ জবাবে সাটন বলেন, ‘কারণ টাকা সেখানেই থাকে।’ এক, দুই বছর নয়, টানা চল্লিশ বছর পিস্তল নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করেন সাটন। লুট করেন ২০ লাখ ডলার। ধরা যে পড়েননি, তা নয়। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় ছিলেন কারাগারে। কারাগারে থাকার সময় তিনবার পালানোরও চেষ্টা করেন সাটন। ছদ্মবেশে ডাকাতি করে টাকা-পয়সা নিয়ে কীভাবে পালিয়ে যেতে হয়, সে বিষয়ে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। এ কারণে তাকে ‘অভিনেতা উইলি’ ও ‘পিছলা উইলি’ এই দুই নামে ডাকা হতো। সাটন টাকার জন্য ব্যাংক ডাকাতি করতেন, তা বলাই বাহুল্য। তবে ব্যাংক ডাকাতিকে তার পেশা ও নেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে অন্য কারণও ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ব্যাংক ডাকাতি করি কারণ এটি করতে মজা পাই। এই কাজকে আমি ভালোবাসি। ব্যাংকের ভেতর ডাকাতির সময় নিজেকে অনেক বেশি জীবিত মনে হয়। অন্য সময়ে এমনটা অনুভূত হয় না। ব্যাংক ডাকাতির সময় প্রতিটি মুহূর্ত আমি এত বেশি উপভোগ করি যে, এক বা দুই সপ্তাহ পর আমি পরের ডাকাতির চিন্তাভাবনা শুরু করে দিই।’ সাটন পিস্তলের সাহায্যে সহজ কায়দায় ডাকাতি করলেও ইতিহাসের অন্য বিখ্যাত ডাকাতরা গোপন সুড়ঙ্গ খুঁড়ে, ব্যাংকের দেয়াল বা ছাদে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের অপহরণ করে ডাকাতি করেন। যে ডাকাত যত বেশি মাথা খাটিয়ে সফলভাবে ভল্টে রাখা টাকার পাশাপাশি সেইফ ডিপোজিট বাক্সে রাখা গহনা, স্টক সার্টিফিকেটসহ মূল্যবান অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে পালাতে পেরেছেন, তিনি তত বেশি স্মরণীয়। এমন স্মরণীয় কয়েকটি ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা নিচে উল্লেখ করা হলো যেখানে ডাকাতরা লাখ লাখ ডলার ডাকাতি করে বীরদর্পে ব্যাংক থেকে বের হয়ে যান।               

লয়েডস ব্যাংক

শার্লক হোমস স্রষ্টা ব্রিটিশ লেখক আর্থার কোনান ডয়েলের একটি গোয়েন্দা গল্পের নাম দ্য রেড-হেডেড লিগ। গল্পটিতে ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করেন একদল ব্যক্তি। তারা যে ব্যাংকটি লুট করবেন বলে ঠিক করেছিলেন, তার কাছের একটি ভবন থেকে ওই ব্যাংকের ভল্ট পর্যন্ত মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। আর্থার কোনান ডয়েলের ওই বই প্রকাশের আট বছর পর প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে লন্ডনে। মজার বিষয় হলো, কাল্পনিক চরিত্র শার্লক হোমস লন্ডনের যে এলাকায় থাকতেন, সেই বেকার স্ট্রিটেই ওই ডাকাতি হয়। সময় ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস। লন্ডনের লয়েডস ব্যাংকের বেকার স্ট্রিট শাখার কাছে একটি দোকান ভাড়া নেয় চার সদস্যের ডাকাত দল। তাদের নাম অ্যান্টনি গ্যাভিন, রেজ টাকার, টমাস স্টিফেন্স ও বেঞ্জামিন উলফ। ডয়েলের দ্য রেড-হেডেড লিগ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে ডাকাতির মূল পরিকল্পনা করেছিলেন অ্যান্টনি গ্যাভিন। ডাকাতরা জানতে পারেন, ব্যাংকটির ভল্ট সেইফ ডিপোজিট বাক্সে পূর্ণ। তারা এও খবর পান, ব্যাংকটির নিকটবর্তী সড়কে সংস্কারকাজ চলার কারণে একটু পরপর ফলস অ্যালার্ম বেজে ওঠায় ব্যাংকটির ভল্টের অ্যালার্ম সেন্সর বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আর্থার কোনান ডয়েলের দ্য রেড-হেডেড লিগ গল্পের ডাকাতদের মতোই লন্ডনের সত্যিকারের ডাকাত দল বেকার স্ট্রিটে তাদের ভাড়া নেওয়া দোকান থেকে লয়েডস ব্যাংকের ভল্টের মেঝে পর্যন্ত ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে। সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ তারা ডাকাতির দিন নির্ধারণ করেন। ডাকাতি করার সময় একপর্যায়ে ওয়াকি-টকিতে ডাকাতদের কথাবার্তা অ্যামেচার রেডিওতে শুনে ফেলেন রবার্ট রোল্যান্ডস নামের এক ব্রিটিশ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ যখন ব্যাংকটিতে পৌঁছায়, তখন ডাকাতরা ভল্টের ভেতরেই ছিলেন। পুলিশ ভল্টের দরজা পরীক্ষা করে সেটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পায়। কিছুই হয়নি ভেবে তারা চলে যায়। পুলিশ ত্রিসীমানায় নেই বুঝতে পেরে ডাকাতরা নিশ্চিন্ত মনে আনুমানিক ৭০ লাখ ডলার (বর্তমান সময়ে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার) নিয়ে পালিয়ে যান। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি। ওই ডাকাত দলের সদস্য বেঞ্জামিন উলফ একটি ভুল করে ফেলেছিলেন। ব্যাংকের কাছের দোকানটি ভাড়া নেওয়ার সময় তিনি নিজের সত্যিকারের নাম ব্যবহার করেন। তার ওই বোকামির কারণে তিনিসহ আরও তিন ডাকাতের নাম জেনে যান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। গ্যাভিন, টাকার ও স্টিফেন্সের ১২ বছর আর উলফের আট বছরের কারাদণ্ড হয়।

ইউনাইটেড ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংক

১৯৭২ সালে একদল ডাকাত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লাগুনা নিগুয়েল শহরের ইউনাইটেড ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংকে ডাকাতি করে ইতিহাসে নাম লেখান কারণ ওই সময়ে সেটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি। ডাকাতরা দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে ওই ব্যাংক থেকে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ ডলার লুট করেন। ডাকাত দলটির নেতৃত্বে ছিলেন আমিল ডিনজিও নামের এক মার্কিনি। সঙ্গে ছিলেন তার ভাই জেমস ডিনজিও, ভাতিজা হ্যারি বারবার ও রোনাল্ড বারবার, দুলাভাই চার্লস মালিগান, অ্যালার্ম বিশেষজ্ঞ ফিল ক্রিস্টোফার এবং চার্লস ব্রোকেল। তাদের কাছে খবর ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তিন কোটি ডলার ইউনাইটেড ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংকে লুকিয়ে রেখেছেন। ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শ্রমিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ব্রাদারহুড অব টিমস্টারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি হফা প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে ঘুষ হিসেবে দিয়েছিলেন, এই গুজব সে সময় উঠেছিল। ১৯৭১ সালে নিক্সন শ্রমিক নেতা হফারের কারাদণ্ডাদেশ কমালে গুজবটি ডালপালা ছড়ায়। ২০১৯ সালে আমিল ডিনজিওর ভাতিজা হ্যারি বারবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি বিস্টকে বলেছিলেন, ‘নিক্সন আমাদের পছন্দের মানুষ ছিলেন না। তাই আমরা যখন শুনি তিনি ইউনাইটেড ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংকে টাকা লুকিয়ে রেখেছেন, তখন আমাদের মনে হয় আমরা যদি তার ওই অবৈধ অর্থ ডাকাতি করি, তাহলে তিনি এ নিয়ে কাউকে কিছু বলতে পারবেন না।’ ১৯৭২ সালের ২৪ মার্চ ইউনাইটেড ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংকের প্রধান অ্যালার্মের ভেতর সার্ফবোর্ড মেরামতের ফোম লাগিয়ে পুরো অ্যালার্ম সিস্টেম অকেজো করে দেন অ্যালার্ম বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার। এরপর ডাকাতরা ডিনামাইটের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাংকটির ভল্টের ছাদে ছিদ্র করেন। ওই ছিদ্র দিয়ে তারা ভল্টে ঢুকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার লুট করে পালিয়ে যান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) ডাকাতদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। তবে ডিনজিওর নেতৃত্বে ডাকাত দল যে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার লুট করেছিল, তা ব্যাংকটিতে রাখা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের গোপন অর্থের অংশ ছিল কি না, তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।

নর্দার্ন ব্যাংক

২০০৪ সালে বড়দিনের কিছু আগে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে মুখোশ পরিহিত একদল ডাকাত দুই ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হয়। ওই ব্যাংক কর্মকর্তাদের নাম ক্রিস ওয়ার্ড ও কেভিন ম্যাকমুলান। তারা উভয়েই নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে নর্দার্ন ব্যাংকের সদর দপ্তরে কাজ করতেন। ডাকাতরা ওয়ার্ড ও ম্যাকমুলানের বাড়িতে ঢুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। নর্দার্ন ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করতে সহায়তা না করলে তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেন ডাকাতরা। ২০ ডিসেম্বর ওয়ার্ড ও ম্যাকমুলান অন্যান্য দিনের মতোই ঠিকসময়ে ব্যাংকে হাজির হন। তাদের আচরণ দেখে বোঝার উপায় ছিল না, তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ওইদিন বিকেলে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওয়ার্ড ও ম্যাকমুলান ব্যাংকের ভল্ট খোলেন। ডাকাতরা ব্যাংকেই ছিলেন। তারা ভল্ট থেকে ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার নেন। পুরো কাজটা ডাকাতরা এত সূক্ষ্মভাবে করেন যে, তারা কোনো সূত্র রেখে যায়নি। ডাকাতদের ধরতে না পেরে পুলিশ কর্মকর্তারা আয়ারল্যান্ডের প্যারামিলিটারি সংগঠন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির (আইআরএ) ওপর দোষ চাপায়। আইআরএ দীর্ঘদিন ধরে আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করে আসছিল। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশের দোষারোপের কারণে ডাকাতির ঘটনা রাজনৈতিক রূপ নিতে বেশি সময় নেয়নি। আইআরএর সদস্যদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ আনায় নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চলমান শান্তি আলোচনা সে সময় ব্যাহত হয়। নর্দার্ন ব্যাংকে ডাকাতির ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

ব্যাঙ্কো সেন্ট্রাল ব্যাংক

২০০৫ সালে ব্রাজিলের ফোর্টালেজা শহরে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কৃত্রিম টার্ফ প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ভবন ভাড়া নেন। ওই ব্যক্তিরা আসলে ডাকাত ছিলেন। টার্ফ তৈরির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ভবনটি ভাড়া নেওয়ার পর ডাকাত দল ফোর্টালেজার ব্যাঙ্কো সেন্ট্রাল ব্যাংক শাখার দিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করেন। ভবনটি থেকে ব্যাংক পর্যন্ত আড়াইশো ফুট দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুঁড়তে তাদের সময় লাগে প্রায় তিন মাস। ৬ আগস্ট সুড়ঙ্গ দিয়ে ডাকাত দল ব্যাংকটির ভল্টে পৌঁছায় এবং ৭ কোটি ডলারের বেশি লুট করে। তারা এই কাজ করেছিল ব্যাংকটির সাপ্তাহিক ছুটির সময়। এ কারণে সোমবার ব্যাংকে যাওয়ার পর কর্মকর্তারা ডাকাতির বিষয়টি জানতে পারেন। লুইস ফারনান্দো রিবেইরো নামে ২৬ বছর বয়সী এক ব্রাজিলিয়ান ব্যাংক ডাকাতির নেতৃত্ব দেন বলে সন্দেহ হয় পুলিশের। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই রিবেইরো অপহৃত হন এবং তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রিবেইরোর পরিবার অপহরণকারীদের ৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার দিলেও তারা তাকে হত্যা করে লাশ ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের বাইরে ফেলে দেয়। সে সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির কয়েকজন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির ধারণা, রিবেইরোর অপহরণ ও হত্যার পেছনে পুলিশ কর্মকর্তারাই জড়িত ছিলেন।

ব্রিটিশ ব্যাংক অব দ্য মিডল ইস্ট

১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে লেবাননে গৃহযুদ্ধ চলাকালে একদল ডাকাত একটি ব্যাংকের ভল্ট প্রায় খালি করে দেন। তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত ব্রিটিশ ব্যাংক অব দ্য মিডল ইস্টকে টার্গেট করে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ব্যাংকটির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল একটি ক্যাথলিক গির্জা। ওই গির্জার ভেতরে ঢুকে সেটির ব্যাংকসংলগ্ন দেয়াল বিস্ফোরক দিয়ে ভেঙে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন ডাকাতরা। ভল্ট থেকে তারা ২ থেকে ৫ কোটি ডলার মূল্যের সোনার বার, স্টক সার্টিফিকেট, গহনা ও কয়েক ধরনের মুদ্রা লুট করেন। ব্রিটিশ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওই ডাকাতির জন্য প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) দায়ী করে। ওই কাজ আসলে কারা করেছিল, তা আজও জানে না লেবানন সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত