ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে একটি চীনা বেলুন উড়তে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে। এটি চীনের নজরদারি বেলুন, এই অভিযোগ এনে এফ-২২ ফাইটার জেট পাঠিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করা হয়। আলাস্কা এবং কানাডার আকাশেও অজানা উড়ন্ত বস্তুর সন্ধান পেয়ে সেগুলোকেও একই কায়দায় ভূপাতিত করা হয়। এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে এখনো উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বেলুনের খবর এলো। এবার কিয়েভে পাঠানো রুশ বেলুন ভূপাতিত করার দাবি করল ইউক্রেন। ইউক্রেন বলছে, রাজধানী কিয়েভের আকাশে উড়তে থাকা অন্তত ছয়টি বেলুন শনাক্ত করার পর এগুলোর বেশিরভাগ ভূপাতিত করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে কিয়েভের স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ জানায়, বেলুনগুলো সম্ভবত রাশিয়া থেকে ওড়ানো হয়েছিল। বেলুনের সঙ্গে এমন কিছু সরঞ্জাম ছিল, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চিহ্নিত এবং দুর্বল করতে সক্ষম। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেশির ভাগ বেলুন ভূপাতিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছে।
আকাশে বেলুন শনাক্তের পর গতকাল বুধবার কিয়েভজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঝুঁকি দেখা গেলে সাইরেন বাজানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাট অভিযোগ করেন, তার দেশের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা দুর্বল করতে গোয়েন্দা বেলুন উড়িয়েছে মস্কো।
গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে কিয়েভের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তাদের দেশের আকাশে বিভিন্ন সময় রুশ বেলুনের উপস্থিতি দেখা গেছে। দাবি করা হয়, যুদ্ধের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে এসব বেলুন পাঠিয়েছে মস্কো।
এমনকি গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ মলদোভার আকাশেও এমন বেলুন উড়তে দেখা যায়। এর জেরে দেশটি তাদের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বেলুনটি আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য রাশিয়া থেকে ওড়ানো হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়তে থাকা চীনা বেলুনটিও আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহে ওড়ানো হয় বলে দাবি চীনের। যদিও সেই বেলুনকাণ্ডে নির্ধারিত ও বহুল প্রত্যাশিত পেইচিং সফর স্থগিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
এখন ব্লিঙ্কেন আছেন জার্মানিতে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে। সেখানে ইউক্রেন নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। তবে সেখানে চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্লিঙ্কেন আলাদা করে আলোচনায় বসবেন কি না, তা এখনো জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
