ইভিএম সারতে টাকা দিতে চায় না অর্থ মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৩, ০৫:৩৭ এএম

পুরনো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সারতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সেই টাকা দিতে চাচ্ছে না। ফলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতগুলো ইভিএম ব্যবহার করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। কেননা, পুরনো ইভিএম সচল করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে। অর্থ বরাদ্দ না হলে বর্তমানে সচল থাকা ইভিএম দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০টি আসনে নির্বাচন করা সম্ভব। এ জটিলতা কাটাতে আবারও নতুন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি সচিবালয়।

জানতে চাইলে ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভিএম মেরামতের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য আমরা ইসিতে দিয়েছি। সেই বিষয়টি দেখভাল করছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

জানা গেছে, ইভিএমের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে গত বুধবার নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। সেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতগুলো আসনে ইভিএম ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে জানানো হয়, ইভিএমগুলা সচল করতে বাংলাদশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কমিশনের হাতে সময় খুবই কম। আর অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড়ের পরও ইভিএমগুলা সচল করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে। এ পরিস্থিতিতে ইভিএম মেরামতের টাকা চেয়ে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠক শেষ হয়।

কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কমিশন সবসময় বলে আসছে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের আপ্রাণ চেষ্টা করবে। তবে কত আসন ইভিএম ব্যবহার করা যাবে তা নির্ভর করবে ব্যবহারযাগ্য ইভিএম মেশিনের ওপর। আর ব্যবহারযোগ্য ইভিএমের সর্বশেষ অবস্থান জানা যাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে।

সূত্রগুলো বলছে, ইসির কাছে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএমের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজারই মেরামত করা লাগবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার ইভিএম ভারী এবং ৩০ হাজার ইভিএম হালকা মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছে বিএমটিএফ। বাকি ৪০ হাজার ইভিএম পুরোপুরি অকেজো। বর্তমানে মাত্র ৩৫-৪০ হাজার মেশিন সচল রয়েছে।

এ প্রকল্পের সঙ্গে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, সমস্যা সমাধানে ইভিএম মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি চালাচালির পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছে ইসি সচিবালয়। কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পায়নি। এখন হাতে সময় কম। ফলে আবারও চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ চিঠির জবাবের ওপর ইভিএমের বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত