যুদ্ধ ও মহামারীর মতো সংকট ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসে গলাটিপে ধরেছে বর্তমানের। বিশেষ করে গেল তিন বছরের মধ্যে ইউরোপ শত বছর আগের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই যুদ্ধের মুখে পড়ে মহাদেশটির অবস্থা খুবই নাজুক। সংকট ও সংশয় গ্রাস করেছে মানুষজনকে। এ অবস্থায় অঞ্চলটিতে হঠাৎ করেই বিত্তবান মানুষেরা নিরাপত্তার অভিনব ব্যবস্থা করতে শুরু করে দিয়েছেন। তারা বাড়িতে তৈরি করছেন বাংকার। আর পোল্যান্ডের এক কোম্পানি বাড়িতে বাড়িতে বাংকার তৈরি করে এখন মুনাফাও পাচ্ছে বেশ।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বলছে, পোল্যান্ডের ফেরোপ্লাস্ট নামের কোম্পানিটি অর্থের বিনিময়ে বাড়িতে বাংকার বানানোর কাজটি করছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আছে এর কারখানা। কোম্পানির প্রধান ডেভিড রিবিকি জানান, এটি তাদের পারিবারিক ব্যবসা। অনেক বছর ধরেই চলছে। তবে এবার যুদ্ধ শুরুর পর হু হু করে বেড়েছে চাহিদা।
রিবিকি বলেন, দুই বছর আগে আমরা কভিডের মুখে পড়েছিলাম। এখন যুদ্ধ চলছে। কেউ ভাবেনি যে ইউরোপে যুদ্ধ হবে। কিন্তু এখন সেটাই ঘটছে। চীন ও তাইওয়ান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত রয়েছে। এখন মিডিয়ায় শুনছি যে খাদ্য সংকট আসছে। পানির সংকট। কেউ জানে না কী ঘটতে চলেছে। তাই নিরাপদ বোধ করতে হলে আমরা সেই সমাধানসূত্র দিচ্ছি। তিনি জানান, তার কারখানায় বাংকার ও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে সুরক্ষার শেল্টার তৈরির কাজ অনেক বেড়েছে। বুলেটপ্রুফ এআর ইস্পাত দিয়ে রাত দিন কাজ চলছে কারখানায়।
এই কোম্পানি বিভিন্ন মাপের বাংকার তৈরি করে। যেমন ছোট প্যানিক রুমের মূল্য ১৫ হাজার ইউরো। এই ঘরে মাত্র আধ ঘণ্টা কাটানো যায়। সে কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে পুলিশ অ্যালার্মও রয়েছে। কিছু ঘটলে আপনি পরিবারসহ সেখানে আবদ্ধ হয়ে বোতাম টিপে শুধু অপেক্ষা করতে পারেন।
রিবিকি সাধারণত আমেরিকার ক্রেতা ও জার্মান ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য বাংকার তৈরি করেন। যেমন বার্লিন-ভিত্তিক বিএসএসডি কোম্পানি তার গ্রাহক। তারা বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। কোম্পানির মার্ক শ্মিশেন বলেন, ‘আমাদের ওয়েবসাইটের ভিজিটের সংখ্যা দেখেও সেটা টের পেয়েছি। আগে দিনে প্রায় ১০০ ভিজিটর আসত। আচমকা সেটা বেড়ে ১০ হাজার হয়ে উঠল। ভাবতেই পারছেন এর কত বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
