বাংলাদেশের প্রশংসায় বিশ্বনেতারা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ০৩:১৪ এএম

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনসহ বিশ্বনেতারা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাফল্যের প্রশংসা করেছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, ক্রমবর্ধমান সুশিক্ষিত কর্মশক্তি নিশ্চিত করে আঞ্চলিক নেতৃত্বের অবস্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব এবং গত পাঁচ দশকের অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। অতি সম্প্রতি আমরা করোনাভাইরাস মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং একটি মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করে সত্যিকার অর্থে অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, সুশাসন, মানবাধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ব্লিঙ্কেন বলেন, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে এসব গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ নিজের বিশাল সম্ভাবনা দিয়ে এসব অর্জন করবে।

মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার প্রশংসা করে ব্লিঙ্কেন বলেন, গণহত্যার মুখে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার প্রতি তার অঙ্গীকার তুলে ধরেছে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ জোরালো নেতৃত্ব দেখিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক অভিনন্দন বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং বলেছেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং তা আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অসাধারণ সাফল্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই এবং চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগে অসামান্য অগ্রগতি সাধন করেছে এবং স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ ইতিবাচক ফল এনেছে, যা দুই দেশ এবং তাদের জনগণের জন্য সত্যিকার সুফল বয়ে এনেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চমৎকার ঐতিহ্যের ওপর গড়ে উঠেছে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক স্বার্থকে পুরোপুরি বজায় রাখে, এমন গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

ঢাকায় রুশ দূতাবাসের টেলিগ্রামের চ্যানেলে পুতিনের ওই বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশে সেদেশের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দার ভেকিয়েনসেভিচ মান্তেস্কির একটি শুভেচ্ছা বার্তাও প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত।

এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর।

রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে উদ্দেশ্য করে এই টুইটে এ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অভিন্ন ত্যাগের ওপর আমাদের দুদেশের বহুমুখী অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত। ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতির ক্ষেত্রে সবসময় শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত