ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্বীকৃতি ২-৩ মাসের মধ্যে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩, ০২:৫৫ এএম

ফিটনেস ঠিক রেখে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

তিনি বলেন ‘এসব গাড়িতে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ব্যাপারে বিআরটিএ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তাদের একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হবে। দুদিন আগে যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ হয়েছে। বলেছি, বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলতে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) প্রকাশনা ‘এমপাওয়ারিং বাংলাদেশ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উন্নয়নে আমরা বুয়েটকে ৩ কোটি টাকার মতো দিয়েছিলাম। তারা হাইড্রোলিক ব্রেক, ব্যাকলাইটসহ একটা স্ট্রাকচার, ডিজাইন দাঁড় করিয়েছে। চলমান অটোরিকশাগুলো কীভাবে সচল রাখা যায়, আবার নতুনগুলো কীভাবে করা যায় এসব নিয়ে কাজ হয়েছে।’

‘অটোরিকশা চালকদের এখন খুবই জুলুম হচ্ছে। তাদের কাছে এ-এসে বলে, “কাগজ দেখাও”, তমুক এসে বলে, “কাগজ দেখাও”।’ তিনি আরও বলেন, ‘অটোরিকশার সঙ্গে দেশের ২০ থেকে ৩০ লাখ পরিবারের জীবিকা জড়িত।

তাদের দরকার স্বীকৃতি। আমরা হয়তো আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে এ স্বীকৃতি দিয়ে দেব। একটা বড় কনভেনশন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ‘ব্রিটেনসহ বিশে^র উন্নত অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমরা ভাগ্যবান। সাউথ আফ্রিকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়েছে। তাদের তুলনায় আমরা ভালো আছি। আমাদের অর্জন নিয়ে গর্ববোধ করি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সবাইকে বিদ্যুৎ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে আমাদের। কিন্তু জ্বালানি স্বল্পতা ও অন্যান্য কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে মাঝেমধ্যে সমস্যা হয়। কিছুদিন আগে ডলারের বাজার কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিল। এখন আমাদের এক্সপোর্ট বাড়ছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে। ডলার সংকট আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠছি। জ্বালানি আমদানিতে তেমন সমস্যা হবে না আশা করছি।’

উপদেষ্টার মতে, ‘জ্বালানি খাতে আমাদের গবেষণা আরও বাড়াতে হবে। হাইব্রিড কুকিং নিয়ে গবেষণা চলছে। ফলাফল ভালো, খরচও কম, আগামী ২০-৩০ বছরে হাইব্রিড কুকিংয়ে যেতে পারি। সোলারের ইরিগেশনে যেতে পারি আমরা।’

গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ‘কনকো ফিলিপস চলে গেল দামের ইস্যু তুলে। আমরা পসকো দাইয়ুকে ডেকে এনেছি। এখন এক্সন মবিল আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমার মনে হয় ওরা কৌশলগত কারণে আসতে চায়। এ বছরের মধ্যে কিছু একটা হতে পারে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তুলতে হবে। এতে সেখানকার বিরাট এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ক্ষতির পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হবে। এর সঙ্গে অন্যান্য অনেক ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। এসব বিবেচনায় এখনই কয়লা উত্তোলনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এখন নিম্নমুখী হওয়ায় দেশে দাম কমানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এ প্রবণতা যদি আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বাজারে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমিয়ে সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

চলমান সেচ এবং গ্রীষ্মে বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার সময় সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়েছে, যা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত না করে, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি এখনকার মতোই ভালো থাকবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাইলট প্রকল্পের আওতায় তিতাসের পাইপলাইনে লিক ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। এর ফলে লিকেজ হলে তা শনাক্ত করা যাবে সহজেই। পাইলটিং প্রকল্পকে “স্কেল আপ” করার কাজ চলছে। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হলে পাইপলাইনের দুর্ঘটনা কমে আসবে।’

এফইআরবির চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে নির্বাহী পরিচালক রিশান নাসরুল্লাহর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমির আলী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত