দেশে জ্বালানি সংকট নিরসনে শিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করছে সরকার। কিন্তু উচ্চ শুল্কহারের কারণে শিল্পে সোলার সিস্টেম স্থাপন ব্যবসায়ীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা আছে। উচ্চ শুল্কের কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সবুজ কারখানা স্থাপন ও পরিচালনায় সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির উচ্চ শুল্ক কমিয়ে গড়ে ১ শতাংশে নামানোর দাবি জানিয়েছে রপ্তানিমুখী পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ।
সম্প্রতি বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানির শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিদেশি ক্রেতারা শিল্প কারখানাগুলোতে কমপ্লায়েন্সের আওতাভুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে। শিল্প কারখানায় সোলার প্যানেল সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু শিল্প প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম স্থাপনের ক্ষেত্রে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ থাকার কারণে উদ্যোক্তাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সবুজ কারখানা স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ফারুক হাসান জানান, বর্তমানে সোলার প্যানেল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। ইনভার্টার, ফুয়েল সেভার কন্ট্রোলার, এসসিএডিএ এবং এগুলোর আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য। এর বাইরে অ্যালুমিনিয়াম স্ট্রাকচার, ওয়াক ওয়ে ও ডিসি কেব্ল এবং এগুলোর আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এসব শুল্ক গড়ে ১ শতাংশ করার দাবি জানান ফারুক হাসান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সহজলভ্য হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেয়ে রপ্তানির সক্ষমতা বাড়বে। ফারুক হাসান বলেন, সোলার পিভি সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ভিশন অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। পোশাক কারখানাগুলো ইতিমধ্যে সোলার প্যানেলভিত্তিক নবায়নযোগ্য এনার্জি প্ল্যান্ট স্থাপনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সোলার প্যানেল সিস্টেমের সরঞ্জামাদির উচ্চমাত্রার শুল্ককরের কারণে দেশের নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শিল্প কারখানার মধ্যে পোশাকশিল্পের বিশাল অবকাঠামো থাকায় সেখানে উচ্চ শুল্কের মধ্যেও অনেকে ইতিমধ্যে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল বসিয়েছেন। পরিবেশবান্ধব সুখ্যাতি অর্জনের জন্য আরও উদ্যোক্তা তাদের নিজস্ব শিল্প এলাকায় সৌর প্যানেল বসানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনেও বাংলাদেশ বিশে^ একটি অন্যান্য অবস্থান অর্জন করেছে। বিশ্বের সর্বাধিক পরিবেশবান্ধব কারখানা এখন রয়েছে বাংলাদেশে। দেশে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ১৯৩টি লিড সার্টিফায়েড গ্রিন কারখানা রয়েছে।
