ঈদে স্থানীয় পর্যটকদের পদভারে মুখর শ্রীমঙ্গলের সব পর্যটনকেন্দ্র। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটন স্পটগুলোতে বাইরের পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
সরেজমিন পর্যটন স্পটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, শহরের বাইরের পর্যটক অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কম। স্থানীয়দের সংখ্যাই বেশি। সকালে ঈদের নামাজের পর থেকেই শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া বন, বধ্যভূমি একাত্তর, বিটিআরআই, সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা, নীলকণ্ঠ চা কেবিন এসব জায়গাতেই নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়িয়েছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে।
এসব পর্যটন স্পটে পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট ও থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে এসেছেন নবনীতা বড়ুয়া। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি প্রায় ৬ বছর আগে শ্রীমঙ্গল ঘুরতে আসলাম। অনেক পরিবর্তন হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর, এর আগে যখন লাউয়াছড়ায় এসেছিলাম তখন কিছু বন্যপ্রাণীর দেখা পেয়েছিলাম এই বছর আর কিছুই দেখতে পাইনি।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে পিকআপ, জিপ, সিএনজি, টমটম ও মোটরসাইকেলে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘুরতে দেখা গেছে তরুণদের। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তাদের আটকে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলে নিরুৎসাহিত করে।
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল ঘুরতে এসেছেন ইয়াসিন আরাফাত। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি।চা বাগান,চিড়িয়াখানা দেখলাম। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য যেকোনো মানুষকে বিমোহিত করে।
ময়মনসিংহ থেকে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসেছেন জয়দীপ দাস। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এর আগেও একবার এসেছিলাম। এবার আশা ছিল নতুন কিছু পাব। কয়েক বছর আগে যা ছিল, এখনও তা-ই আছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ দেশ রূপান্তরেকে বলেন, আমাদের বেশির ভাগ হোটেল রিসোর্টে ৪০ শতাংশ রুম ভাড়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ও তেমন আগাম বুকিং নেই। যেখানে প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে আমাদের হাউজফুল গেস্ট হয় সেখানে এবার গেস্ট অনেক কম। হোটেল রিসোর্টে গেস্ট বেশি হলে রেস্টুরেন্ট, পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই লাভবান হয়। কিন্তু এ বছর সবাই হতাশ। এখন শ্রীমঙ্গলে তেমন গরমও নেই। দিনের তাপমাত্রা অনেক কম। পর্যটকরা এ সময় শ্রীমঙ্গল ঘুরে যেতে পারেন।
