সর্বত্রই দ্রুত ও সহজ উপায়ে টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরির জন্য ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেটের মাধ্যমে সেবাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর বিস্তৃতি লাভ করে। গত মার্চে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক মাসের হিসাবে এটি সর্বোচ্চ লেনদেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন; যা একক মাস হিসাবে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে। সে মাসে লেনদেন হয় ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা।
মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলেছেন, এক মাসে এত লেনদেন এর আগে কখনো হয়নি। দ্রুত শহর থেকে গ্রামে বা গ্রাম থেকে শহরে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংসেবায় গ্রাহক সংখ্যার সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। আর লেনদেনের সীমা বাড়ানোর ফলে রেকর্ড লেনদেন হয়েছে। বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ, উপায়সহ দেশে বর্তমানে ১৩টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সেবা (এমএফএস) দিচ্ছে।
২০২৩ সালের মার্চ শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৩। এর মধ্যে গ্রামে ১১ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭১ ও শহরে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার ৭১২ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধিতদের মধ্যে পুরুষ ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার এবং নারী গ্রাহক ৮ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার।
মোবাইল ব্যাংকিংসেবা এখন আর শুধু টাকা পাঠানোতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর মাধ্যমে দৈনন্দিন কেনাকাটা, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং মোবাইলে রিচার্জসহ নানা ধরনের সেবা মিলছে। রাজধানী ও জেলা শহরে গাড়িচালক ও গৃহপরিচারিকাদের বেতনও এখন দেওয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবা মাধ্যম ব্যবহার করে। শ্রমজীবীরাও এখন এমএফএস সেবার মাধ্যমে গ্রামে টাকা পাঠাচ্ছেন। এমএফএস মাধ্যমে গেল মার্চে মোট ৪৮ কোটি ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৫টি লেনদেনের মাধ্যমে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে জমা পড়েছে (ক্যাশ ইন) ৩৪ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। এ সময়ে তোলা হয়েছে (ক্যাশ আউট) ৩০ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।
ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৩১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। কেনাকাটার জন্য ৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকার বিলও পরিশোধ হয় এ মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংসেবার মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংসেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।
